স্পোর্টস ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া পাকিস্তান দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রোববার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ 'বি'-এর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে দুবারের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।
প্রথম ম্যাচে হারের পর নকআউট পর্বে টিকতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না পেরুভিয়ান কোচ নোলেবের্তো সোলানোর শিষ্যদের। ভারতের বিপক্ষে খেলা একাদশে ৪টি পরিবর্তন এনে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় তারা। চতুর্থ মিনিটে সফল স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন অরুণ আবদুল্লাহ। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর (৯ম মিনিট) জুনায়েদ আহমেদ শাহর চমৎকার ক্রস থেকে গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ১৯ বছর বয়সি তরুণ ফরোয়ার্ড নজীব উল্লাহ। এরপর একক দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় ডান দিক থেকে ডিফেন্ডার আমদান আলীকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো বাম পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় সুনিশ্চিত করেন নজীব।
এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং +২ গোল ব্যবধান নিয়ে গ্রুপের খেলা শেষ করল পাকিস্তান। অন্যদিকে ১ ম্যাচ খেলা ভারতের পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান +১। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে কেবল ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিতে যাবে ভারত। তবে অস্বাভাবিক ব্যবধানে হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে ৯ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান কোচ সোলানো সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখন কিছুটা স্বস্তিতে আছি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমাদের যাত্রায় বেশ কিছু সমস্যা ছিল। অনুশীলনের দুটি দিন মিস করা ফুটবলে স্বাভাবিক নয়। সেই ম্যাচের পর আমরা দলকে গুছিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় পেয়েছিলাম। ফলাফলে আমি অত্যন্ত খুশি। আমরা টুর্নামেন্টে টিকে আছি এবং সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছি।"
অন্যদিকে শুরুতে সুযোগ মিস এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মালদ্বীপের কোচ ইস্তভান আরবানি বলেন, "ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটেই আমাদের সামনে দুটি গোল করার সুযোগ এসেছিল। এরপর পেনাল্টি থেকে গোল খাওয়াটা দলকে মানসিক ধাক্কা দেয়। আর তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে পরিষ্কার ফাউল হলেও রেফারি বাঁশি না বাজানোটা ছিল এক কথায় হাস্যকর।"