স্পোর্টস ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বল-টেম্পারিং কাণ্ডে পুরো অস্ট্রেলিয়া দলই জড়িত ছিল- নিজের আত্মজীবনীতে এমন দাবি করার পর তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সদ্য অবসর নেওয়া অজি ওপেনার উসমান খাজা।
তবে এ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে খাজা পরিষ্কার করেছেন, তিনি সতীর্থদের “বলির পাঁঠা বানাতে” বা কারো ওপর দোষ চাপাতে এমন মন্তব্য করেননি; বরং পুরো দলকে দায়বদ্ধতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের আত্মজীবনী ‘সাবর’ প্রকাশের প্রাক্কালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা জানান, শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার কিংবা ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টই নন, সেদিনের ঘটনার পেছনের খবর দলের সবারই জানা ছিল। এমনকি কেপটাউন টেস্টের আগে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টেও বল বিকৃতির কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ বার্তায় খাজা বলেন, "আমি যখন বলেছি 'আমরা সবাই জড়িত ছিলাম', তার মানে দাঁড়ায় আমরা পছন্দ করি বা না করি- দল হিসেবে যা ঘটেছে তার দায়ভার আমাদের সবার। এটি আমাদের যৌথভাবে গ্রহণ করা উচিত।"
"আমি কাউকে বলির পাঁঠা বানাইনি। বর্তমানে দলে থাকা খেলোয়াড় বা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা আমরা কেউই ভুক্তভোগী নই। স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফ্ট- এই তিনজন আমাদের সবার হয়ে শাস্তি ও গালমন্দ সহ্য করেছে।"
দীর্ঘ আট বছর পর কেন এসব কথা সামনে আনলেন, তার ব্যাখ্যায় ৩৯ বছর বয়সী খাজা জানান যে এটি বই বিক্রির কোনো কৌশল নয়। ২০১৮ সালেই তিনি সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্টিভ স্মিথ নিজেই সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তাকে আটকে দেন।
এরপর ২০২১ সালেও প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নদের করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর তিনি মুখ খুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তৎকালিন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের সঙ্গে আলোচনার পর পিছিয়ে যান। ২০২২ সালে টেস্ট দলে ফেরার পর দলের স্বার্থ বিবেচনা করে নীরব ছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
খাজার এসব বিস্ফোরক দাবির বিপরীতে সেই সময়ের প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যান পুরো দল যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তাদের মূল তদন্তের ফলাফলেই তারা আস্থা রাখছে।