Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

মহাকাব্যিক ডাবল সেঞ্চুরিতে উইজডেন ক্রিকেটে তাওহীদ হৃদয়

স্পোর্টস ডেস্ক

০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ এএম

আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের শুরুতেই রূপকথার জন্ম দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ ইনিংসের পরিসংখ্যান ঘেঁটে উইজডেনের পাতায় জায়গা করে নিয়ে গত এক শতাব্দীর বিশ্বসেরা ব্যাটারদের অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন এই তরুণ টাইগার ব্যাটার। উইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে তার এই ঐতিহাসিক দ্বিশতক শুধু একটি ইনিংস নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট ইতিহাসের এক নতুন মোড়।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে যখন খাদের কিনারায় ধুঁকছিল বাংলাদেশ মাত্র ১৮৪ রানে ৭ উইকেট নেই। তখন দলের ত্রাতা হয়ে উইকেটে আসেন হৃদয়। সেখান থেকে এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। ৩৫৯ বলের মুখোমুখি হয়ে ২২টি চোখ জুড়ানো চার এবং ১১টি বিশাল ছক্কায় সাজান তার অনবদ্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি। তার এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ ৩৮৬ রান এবং আদায় করে নেয় ৩০ রানের অমূল্য লিড।

এই একটিমাত্র ইনিংসেই একাধিক রেকর্ডের বরফ গলিয়েছেন হৃদয়। এর আগে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা অপরাজিত ২১৯ রান ছিল টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন নতুন চূড়ায় উঠেছেন হৃদয়। শুধু তাই নয়, দেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

হৃদয়ের এই বিশ্বমানের ব্যাটিং নৈপুণ্য নজর এড়ায়নি ক্রিকেটের বাইবেলখ্যাত ‘উইজডেন ক্রিকেট’-এরও। গত এক শ বছরে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে উইজডেন, যেখানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের নাম।

গত এক শতাব্দীর এই বিশেষ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ভারতের করুণ নায়ার (২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৩০৩ রান)। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের কিংবদন্তি জহির আব্বাস (১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৪ রান) এবং তৃতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কনরাড হান্টে (১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৬০ রান)। তাদের ঠিক পরেই চতুর্থ স্থানে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়।