স্পোর্টস ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ এএম
শতবছর পূর্তির আসর ঘিরে একসময় যে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছিল, সেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখন আর আলোচনায় নেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০৩০ সালের আসরে দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার কোনো উদ্যোগ তিনি নেবেন না।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টাইমসের একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনএন জানিয়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে মূল পর্বে ৬৪ দল রাখার প্রাথমিক ধারণাটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফা ব্যুরোর সদস্যদের এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে পুনরায় নির্বাচিত হলেও এই সম্প্রসারণের পক্ষে আর কোনো চাপ দেবেন না এবং সংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা থেকে সরে আসবেন।
গত জুনে ইনফান্তিনো নিজেই ৬৪ দলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেসও বলেছিলেন, ২০৩০ আসরকে সামনে রেখে ফিফা আবার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এখন সেই আলোচনা আর এগোচ্ছে না।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এর পরের আসর ২০৩০ সালে ইতিহাসের প্রথমবার ছয়টি দেশে যৌথভাবে হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। শতবর্ষ পূর্তির অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচটি উরুগুয়ের মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেনতেনারিওতে অনুষ্ঠিত হবে। পরের দুটি ম্যাচ আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে হবে। বাকি সব ম্যাচ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয় আয়োজনের দায়িত্ব থাকবে।
এদিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও অপারেশন নিয়ে একটি আধা-বেসরকারি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব নিয়ে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে ইউয়েফার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউয়েফা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ইনফান্তিনো যদি আবার প্রার্থী হন, তাহলে ইউরোপীয় সংস্থাটি অন্যান্য মহাদেশীয় সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একজন বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করাবে। সেই প্রার্থী সততা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের নীতিতে বিশ্বাসী হবেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।