স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
টি-টেন লিগ শুরু হতে মোটে দুই দিন বাকি। ঠিক এমন সময়েই আবু ধাবি টি-টেন লিগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বরফ গলল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো বাধা রইল না।
আগামী সপ্তাহেই মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই সংক্ষিপ্ততম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি। শেষ মুহূর্তে এসে গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের এককালীন অর্থ পাবে পিসিবি। শুধু নগদ অর্থই নয়, এর পাশাপাশি আগামী এক বছরের জন্য আবু ধাবি ক্রিকেট অ্যান্ড স্পোর্টস হাবের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং অনুশীলন মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পাবে পাকিস্তান দল। পিসিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার মতে, কেবল নগদ অর্থের চেয়ে আবু ধাবির এই সুযোগ-সুবিধাগুলো দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানি ক্রিকেটের জন্য অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল পান পাকিস্তানের ১৬ জন তারকা ক্রিকেটার। ড্রাফট শেষ হওয়ার পরপরই এনওসির জন্য আবেদন করেছিল টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসর শুরুর একেবারে দোরগোড়ায় এসে প্রতি এনওসির জন্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার করে দাবি করে বসে পিসিবি। এতেই আটকে যায় ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র। শেষ পর্যন্ত প্রথম চাওয়া অঙ্কের চেয়ে কিছুটা কমে দুই পক্ষের মধ্যে রফা হয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিতে চাওয়া ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র দেওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে আর্থিক দাবি তোলার ঘটনা পিসিবির জন্য নতুন কিছু নয়। গত দুই মাসের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় এমন পদক্ষেপ। এর আগে গত অক্টোবরে নেপাল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) শুরুর প্রাক্কালেও একই রকম নাটক তৈরি করেছিল পিসিবি। সেবার ক্রিকেটাররা নেপালে পৌঁছে যাওয়ার পরও এনওসিপ্রতি ২৫ হাজার ডলার দাবি করে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত করে তোলা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আইএলটি-টোয়েন্টি’ চালুর সময় থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে অর্থ আদায়ের এই বিতর্কিত কৌশল শুরু করে পিসিবি। বোর্ডের যুক্তি ছিল, অন্যান্য দেশের তুলনায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেশি, তাই পারস্পরিক চুক্তিতে পাকিস্তান আর্থিকভাবে লাভবান হয় না।