Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

তামিম অবকাঠামো তৈরি করছেন, ক্রিকেটার তৈরি হচ্ছে কতটা?: আফতাব

স্পোর্টস ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সময়টা এখন ভীষণ কঠিন। মাঠের পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী ধারায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের পাশাপাশি ব্যথিত সাবেক তারকারাও। এবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের প্রশংসার পাশাপাশি পাইপলাইন বা নতুন ক্রিকেটার তৈরির ঘাটতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার আফতাব আহমেদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় আফতাব আহমেদ বিসিবির আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, মূল ফোকাস অর্থাৎ মাঠের কাঁচামাল বা ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়ায় মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম ইকবাল ড্রেসিংরুম আধুনিকায়ন, জিমনেসিয়াম সংস্কার, অ্যাথলেটিক ট্র্যাক ও সুইমিং পুল নির্মাণের মতো বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে আফতাব আহমেদ বলেন, ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মূল কাজটিতে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

‘আমাদের এখন বর্তমানে যিনি প্রেসিডেন্ট আছেন, আমি প্রশংসা করি যে তিনি সুন্দর ড্রেসিংরুম বানিয়েছেন। অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বানাচ্ছেন। আরও অনেক কিছু বানাচ্ছেন। প্রশংসা করার মতোই। এটা তো আসলে আমাদের জন্য খুবই দরকার। সুযোগ-সুবিধা যত বাড়বে, আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য তত ভালো কিছু হবে।’

তবে ক্রিকেটারদের উন্নতি নিয়ে ভিডিওবার্তায় আফতাব প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি সভাপতিকে একটা কথা বলতে চাই, আপনি আসল জায়গা বাদ দিয়ে, আমার মতে বিভিন্ন জায়গায় যেগুলো করছেন, সে সব কেন করছেন, সেটা হয়তোবা আপনিই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের আসলে যেখানে ফোকাস করা উচিত, ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কী কী করতে হবে, সেটা আপনি আমার চেয়ে অনেক ভালো জানেন। অনেক বেশি ভালো জানেন। কারণ, আপনি অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছেন। ভালো জায়গায় ছিলেন। অবশ্যই আপনার সেই ব্যাপারে ধারণা আছে। আশা করি, সেই সব আপনি করবেন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের পারফরম্যান্সের মূল স্তম্ভ ছিলেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম ও মাহমুদউল্লাহ যাঁরা ‘পঞ্চপাণ্ডব’ নামে পরিচিত। সময়ের পরিক্রমায় তাঁরা একে একে বিদায় নিলেও তাঁদের উপযুক্ত বিকল্প বা ব্যাকআপ তৈরিতে পর্যাপ্ত দূরদর্শিতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ আফতাবের।

তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিদায়ী তারকাদের মানের ব্যবধান সামান্য নয়, বরং প্রায় ১৫-২০ এর মতো বড় একটি ফারাক। এই বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরা নতুনদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি এই শঙ্কা ১০-১৫ বছর আগেই সাবেক ক্রিকেটার ও সচেতন মহল থেকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আফতাবের আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে যারাই আসে, তারাই কীভাবে নিজেদের আরও শো করা যায়, কীভাবে নিজেদের বেনিফিট নেওয়া যায়, সে চিন্তাই করে।’

ক্রিকেটকে শুধু রাজধানী বা নির্দিষ্ট কিছু গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন আফতাব আহমেদ। 

নতুন প্রতিভা অন্বেষণের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৫ এর মতো বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামোতে সুনির্দিষ্ট নজর দিতে হবে। ক্রিকেটকে পুরোপুরি ঢাকা কেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করতে হবে। দেশের দূর-দূরান্তের মফস্বল ও গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা তরুণ প্রতিভাদের খুঁজে বের করে সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।’