Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসি-রোনালদোর বিদায়ের দুই মেরু চিত্র

স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘ দুই দশক ধরে আলো ছড়ানো দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দুজনের ক্যারিয়ারজুড়ে ছিল আনন্দ, আক্ষেপ, রেকর্ড আর শিরোপার উল্লাস। তবে তাদের বিদায়লগ্নের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নীরবে বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেন সিআরসেভেন, আর অন্যদিকে হাজারো ভক্ত ও পরিবারের চোখের জলে জমকালো আয়োজনে বিদায় নেন এলএমটেন।

৫ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক বড় ধাক্কা। মাঠের কোনো সংবর্ধনা বা বিশাল আয়োজনের বদলে অত্যন্ত সাদামাটা ও নিভৃতে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। পর্তুগালকে ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোর পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও এনে দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৬টি গোল নিয়ে পর্তুগাল তথা বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আসীন রয়েছেন তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের সাথে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব ও তৈরি হওয়া জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েনই তাকে জাতীয় দল ছাড়তে ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখন পেশাদার ফুটবলে ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে দেখা, যেখান থেকে তিনি মাত্র ১৫ গোল দূরে রয়েছেন।

রোনালদোর অবসরের ঠিক এক মাস আগে, গত ৬ অক্টোবর বর্ণিল ও আবেগঘন এক আয়োজনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান লিওনেল মেসি। পরিবার এবং আর্জেন্টাইন ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালের টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা সইতে হয়েছিল তাকে।

তবে হাল ছাড়েননি তিনি। পরবর্তীতে দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ঐতিহাসিক ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় ফিরিয়ে আনেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে রেকর্ড ২০৮ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ ১২৬ গোল তো বটেই, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৬ গোল। সব মিলিয়ে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ১৯২টি। কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা সংকটের ছায়া ছাড়াই, দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় মোড়ানো ছিল মেসির এই বিদায়বেলা।

এক মাসের ব্যবধানে ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হলো দুই মেরুর দুটি বিদায়ের। একপাশে কোচিং স্টাফের সাথে দূরত্ব ও হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে রোনালদোর নিঃশব্দ প্রস্থান; অন্যপাশে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেসির রাজকীয় বিদায়।