স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন দলটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তবে জাতীয় দল থেকে নেইমারের এই বিদায়কে একটি সফল এবং অত্যন্ত সম্মানজনক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে নেইমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি আর সেলেসাওদের হয়ে খেলতে চান না। এর আগে বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র ম্যাচে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর থেকেই তাঁর অবসর নিয়ে গুঞ্জন চলছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৫০ ম্যাচ খেলা কাফু বলেন, "জাতীয় দলের হয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি প্রতিটি ফুটবলারের জীবনেই আসে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেইমারের এই অধ্যায়টি ছিল অত্যন্ত সফল। সে তার নিজের ছাপ রেখে গেছে, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে ইতিহাস গড়েছে। জাতীয় দলের হয়ে তার পরিসংখ্যান এক কথায় অবিশ্বাস্য। ব্রাজিলের জার্সিতে তার সময়টি ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক।"
নরওয়ের কাছে এই হার ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়। ফলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। চার বিশ্বকাপে খেলা নেইমার ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল ও ৫৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে জ্যৈষ্ঠ জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপের একমাত্র শিরোপাই জিততে সক্ষম হন।
১৯৯৪ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী কাফু মনে করেন, এখন সময় এসেছে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার। এসি মিলানে খেলার সময় আনচেলত্তির অধীনে খেলা কাফু এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমি শতভাগ নিশ্চিত যে ২০৩০ বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। ব্রাজিলের সেই বিশ্বকাপ জেতার চমৎকার একটি সুযোগ ও সম্ভাবনা থাকবে। এটি একটি নতুন অধ্যায়, একটি নতুন প্রজেক্ট। আনচেলত্তি এখন নিজের কৌশল ও দল পুনর্গঠন করার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।"
২০২৫ সালে দায়িত্ব পাওয়া আনচেলত্তি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও কোচের পদে বহাল রয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখছেন। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলোয়াড়কেই আন্তর্জাতিক সফর থেকে বাদ দিয়ে আটজন নতুন খেলোয়াড়কে অভিষেকের সুযোগ দিয়েছেন তিনি। এমনকি আগামী নভেম্বরের জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের জন্যও আরও পাঁচজন অনভিষিক্ত খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে ডেকেছেন এই ইতালিয়ান কোচ।
তরুণদের কেন্দ্র করে এই পুনর্গঠনকে ইতিবাচকভাবে দেখে কাফু যোগ করেন, "পুনর্গঠন সবসময়ই মূল্যবান, বিশেষ করে তা যখন ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্ষেত্রে হয়। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশে এই তরুণ ফুটবলাররা এসে জাতীয় দলে চমৎকার রসায়ন তৈরি করতে পারবে।"