স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
উইকেটের মনস্তাত্ত্বিক চালে নিজেদের পাতা ফাঁদেই পা দিয়ে মিরপুরে হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে স্বাগতিকরা এখন চোখ রাখছে সিলেটের সবুজ উইকেটে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি কেবল সিরিজ বাঁচানোর লড়াই নয়; বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টিকে থাকার অঙ্ক মেলানোরও শেষ সুযোগ।
স্পিন দিয়ে ক্যারিবিয়ানদের ঘায়েল করার পরিকল্পনা উল্টো বুমেরাং হয়েছিল প্রথম টেস্টে। রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে ১৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অবনতি ঘটেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। ৫৫.৫৮ থেকে পয়েন্ট শতাংশ নেমে এসেছে ৪৭.৬২-এ, যার ফলে দল নেমে গেছে পাঁচ নম্বরে। ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখন বাকি থাকা পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতেই জয় তুলে নিতে হবে। সিলেটের এই ম্যাচ তাই সমীকরণ টিকিয়ে রাখার কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন-সিলেট টেস্টের আগে তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন সিমন্স
আরও পড়ুন-নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি তদন্তে রাশনার নেতৃত্বে কমিটি গড়ল বিসিবি
মিরপুরের পরাজয়কে শুধু উইকেটের দোষ নয়; ব্যাটিং ব্যর্থতাও ছিল প্রকট। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটার মিলে করতে পেরেছেন মাত্র ২৭ রান, অথচ আটে নেমে নাঈম হাসান একাই করেন ৫২ রান। শট নির্বাচনে ভুল আর উইকেটের লাইন বুঝতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে ব্যাটারদের। শান্ত দুই ইনিংসেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন, আর মেহেদী হাসান মিরাজ বোল্ড হয়েছেন জোমেল ওয়ারিকানের বলে। পিচের চরিত্র যাই হোক না কেন, ব্যাটারদের মানসিক দৃঢ়তার অভাবই ডুবিয়েছে দলকে।
সিলেটের কন্ডিশন বাংলাদেশের চেনা হলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এই ভেন্যুতে শেষ চার টেস্টে দুটি জয়ের বিপরীতে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি হার। এখানকার ম্যাচের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয় প্রথম সেশনের পারফরম্যান্সের ওপর। অতীতে দেখা গেছে, শুরুর মেঘলা আকাশ আর পেসারদের সুবিধা সামলে নিতে পারলে উইকেটে রান করা সহজ হয়ে যায়। আগের ম্যাচে চোটে পড়া মুমিনুল হককে কনকাশনের কারণে পাচ্ছে না দল। তবে সুখবর হলো, আঙুলের চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, যিনি ঐতিহাসিক সাত হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ৪৩ রান দূরে আছেন।
অন্যদিকে মিরপুর জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিলেটে পা রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিংদের আক্রমণাত্মক ওপেনিং জুটি নতুন বলে বাংলাদেশের পেসারদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকায় ক্যারিবিয়ানদের হারানোর কিছু নেই, আর এই ফেভারিট নয় তকমাটিই তাদের করে তুলেছে মারাত্মক বিপজ্জনক।
সিলেটের উইকেটে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম কিংবা এবাদত হোসেনদের মধ্য থেকে পেস আক্রমণ সাজিয়ে স্পিনে তাইজুল বা মেহেদীকে দেখা যেতে পারে। তবে ম্যাচের ফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে শুরুর ১০-১৫ ওভারের সেই কঠিন সময়টুকু ব্যাটাররা কীভাবে সামলান তার ওপর। মিরপুরে যা সম্ভব হয়নি, সিলেটে সেটাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র মন্ত্র।
এসটি