Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি তদন্তে রাশনার নেতৃত্বে কমিটি গড়ল বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করার পাশাপাশি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ পাওয়াও নারী ক্রিকেটারদের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে এবার যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলায় স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের অভিযোগ জানানোর পথ সহজ ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিসিবি। আপাতত চারজন সদস্যকে নিয়ে কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকি একজন সাবেক ক্রিকেটারকে পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।

কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া কমিটিতে রয়েছেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান ও জারিন মাহমুদ হোসেন। পঞ্চম সদস্য হিসেবে একজন সাবেক ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে কমিটির সদস্য চূড়ান্ত না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ক্রিকবাজকে কমিটির সচিব চন্দ্রা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, চার সদস্যকে নিয়েই ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

কমিটিতে বিসিবির কোনো কর্মকর্তা বা অভ্যন্তরীণ প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। অভিযোগের তদন্ত যেন কোনো ধরনের প্রভাব, পক্ষপাত কিংবা স্বার্থের সংঘাত ছাড়াই পরিচালিত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০০৯ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনার আলোকে গঠন করা হয়েছে কমিটিটি।

চন্দ্রা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিসিবির সুরক্ষা নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই নীতিমালায় কোন ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর কীভাবে গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের নির্যাতন, যৌন হয়রানি কিংবা অসদাচরণের বিরুদ্ধে বিসিবির অবস্থান শূন্য সহনশীলতার। এই নীতি বাস্তবায়নে অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় অভিযোগকারীর গোপনীয়তা ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।’

ইতোমধ্যে নারী বিভাগের ক্রিকেটারদের মধ্যে সুরক্ষা নীতিমালা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিবির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের কাছে বিষয়টি আরও সহজভাবে তুলে ধরতে প্রচার-প্রচারণাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রা ব্যানার্জি আরও বলেন, ‘আমি প্রথমেই তাদের মনের ভয় দূর করতে চাই। অনেক সময় একজন খেলোয়াড় অভিযোগ করতে গিয়ে দ্বিধায় থাকেন, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাবে কি না কিংবা অপ্রয়োজনীয় প্রচার হবে কি না। আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।’

তিনি মনে করেন, আইনি ভাষায় তৈরি নীতিমালা অনেক সময় সাধারণ খেলোয়াড়দের কাছে পরিষ্কার নাও হতে পারে। তাই শুধু নীতিমালা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর প্রতিটি বিষয় ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘একজন ক্রিকেটারের নিরাপদ, সুন্দর ও সম্মানজনক পরিবেশে খেলার অধিকার রয়েছে। আমরা চাই, তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানুক এবং কোনো সমস্যায় পড়লে নির্ভয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক।’

এ লক্ষ্যে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করতে আয়োজন করা হবে বিশেষ কর্মশালা। এর মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগ, উদ্বেগ কিংবা সমস্যার কথা সংশ্লিষ্টদের জানাতে পারবেন ক্রিকেটাররা।

এদিকে নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজও শুরু করেছে বিসিবি। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১০০ জন নারী ক্রিকেটারের জন্য শিক্ষামূলক ক্লাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিতে তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।