স্পোর্টস ডেস্ক
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ক্রিকেট দুনিয়ায় মহারণ বলতে যা বোঝায়, ২০২৭ সালের পুরুষদের একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) বিশ্বকাপে ঠিক সেই চিত্রই আবার ফিরে আসতে চলেছে। আগামী আসরের খেতাব নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের চাহিদা যেমন থাকে, সেটাকে অনায়াসেই ছাপিয়ে গেছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের খেলাটি। বিশ্বকাপের ট্রফি ছোঁয়ার লড়াই দেখতে ভক্তদের আগ্রহ যেখানে তুঙ্গে থাকার কথা, সেখানে এবার ক্রীড়ামোদী ক্রিকেটপ্রেমীদের সমস্ত নজর আটকে রয়েছে কেবল দুই চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের বিখ্যাত ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৮৪ লাখ। বিপরীতে, মাত্র ৩৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠে আগামী ২১ নভেম্বরের মেগা ফাইনাল দেখতে আবেদনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ লাখ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নেওয়া বিশেষ গ্রুপ বিন্যাসের বদৌলতে ভারত ও পাকিস্তান টানা চতুর্থবারের মতো ওডিআই বিশ্বকাপের একই গ্রুপে মুখোমুখি হচ্ছে। ১২ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে এই দুই এশীয় ক্রিকেট পরাশক্তি, যাদের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে উঠে আসা একটি দল। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে অবস্থান করছে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও অপর এক কোয়ালিফায়ার দল।
আইসিসি সূচি অনুযায়ী, রাউন্ড রবিন পর্ব পেরিয়ে যদি দল দুটি সুপার সেভেন ও পরবর্তী ধাপে পৌঁছায়, তবে এ আসরেই তিনবার দেখা যেতে পারে তাদের। আগামী ২০২৭ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি ভেন্যুতে মোট ৫৭টি দ্বৈরথ অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমেই প্রায় দুই দশক পর আফ্রিকান মহাদেশে বসছে ক্রিকেট মহাকুম্ভের আসর। এর আগে ২০০৩ ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০০৭ সালের উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই অঞ্চলে।
গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টিকিট সংগ্রহের অনলাইনের প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ১৯৩টি দেশের প্রায় ২৮ লাখ ভিন্ন গ্রাহক থেকে ১২ কোটিরও বেশি টিকিট পাওয়ার অনুরোধ জমা পড়েছে। আবেদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া। কেবল আফ্রিকা মহাদেশ থেকেই এসেছে ১ কোটি ৪৯ লাখের বেশি আবেদন।