Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

প্রোটিয়াদের কাছে বাজে হার; অজিদের কড়া সমালোচনায় সাবেকরা

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারীরা মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া করল অজিরা।

এই হারের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে সরিয়ে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিজ্ঞ ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দল নিয়ে আগেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নকে নিয়ে গড়া পেস ও স্পিনের ‘বিগ ফোর’ বোলারদের কার্যকারিতা নিয়ে কানাঘুষো চলছিল। এর আগে গত আগস্টে ডারউইনে দুর্বল বাংলাদেশের কাছেও টেস্টে ৯ উইকেটের এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরাজয় বরণ করেছিল অজিরা।

তবে কেপটাউন টেস্টে বাজে শট নির্বাচন ও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে দলকে এভাবে ধসে পড়তে দেখে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন দেশটির সাবেক তারকারা।

টেলিভিশন ধারাভাষ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক ড্যাশিং ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার বলেন, "আমি চরম হতাশ, এটা খুবই বাজে পারফরম্যান্স এবং অজি ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থী। দলে লড়াইয়ের কোনো মানসিকতাই ছিল না, এটি লজ্জাজনক। ২৮৮ রান তাড়া করে জেতার সুযোগ ছিল, একটা সিরিজ জেতার সুযোগ ছিল; কিন্তু তাদের খেলার ধরণ ছিল হতাশাজনক। পুরো সিরিজেই ব্যাটাররা বোলারদের ব্যর্থ করেছে।"

ওয়ার্নারের সুর মিলিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ২০০২ সালে এই নিউল্যান্ডসেই রান তাড়া করে জেতা দলের সদস্য মার্ক ওয়াহ। তিনি বলেন, "ব্যাটিংয়ের ওই দুটি ঘণ্টা ছিল ভীষণ বাজে ও অপরিপক্ক। শট নির্বাচন, কৌশল কিংবা তার প্রয়োগ- কোনোটিই আন্তর্জাতিক মানের ছিল না।"

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্দশা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে ডেভিড ওয়ার্নার এবং তাঁর দীর্ঘদিনের ওপেনিং সঙ্গী উসমান খাজা অবসর নেওয়ার পর থেকে কোনো স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি দাঁড় করাতে পারেনি দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সুযোগ পাওয়া নিক ম্যাডিনসনও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে তিন নম্বরে একের পর এক সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও মার্নাস লাবুশেনের ক্রমাগত ব্যর্থতা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারকেই বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিকও ছিল কিছু। দলে ফিরে প্রথম টেস্টে পাঁচ নম্বরে নেমে ১৯০ রানের ইনিংস খেলেন ম্যাট রেনশ এবং তৃতীয় টেস্টে ওপেনিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে একটি লড়াই করা ৭৪ রান করেন। অন্যদিকে ঘাড়ে চোট পেয়ে স্টেভ স্মিথ দল থেকে ছিটকে গেলে সুযোগ পেয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান জশ ইংলিশ।

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কঠোর আত্মপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।