স্পোর্টস ডেস্ক
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সীমিত ওভারের বহুজাতিক টুর্নামেন্টে শিরোপাশূন্য থাকার পর অবশেষে ঘুচল পাকিস্তানের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। সাম্প্রতিক ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে পাকিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৩২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে পাওয়া এই জয় কেবল একটি ট্রফি জয়ই নয়, বরং আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করার এক জোরালো ঘোষণা।
সাম্প্রতিক এই ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে পাকিস্তান দল নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছে, যা তাদের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ধীরগতির ব্যাটিং দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। তবে এই টুর্নামেন্টে রিজওয়ানের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে চার নম্বর পজিশনে দারুণ এক আবিষ্কার হয়ে উঠেছেন তরুণ সাদ বেগ। ফাইনালে ৭৪ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংসের পাশাপাশি পুরো সিরিজে প্রায় ৩৮ গড়ে তিনি মোট ১৮৫ রান সংগ্রহ করেছেন। তাঁর দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট দূর করেছে।
গত দুই বছর ধরে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও এই টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ফর্মে ফিরেছেন পেস বোলিংয়ের মূল চালিকাশক্তি শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাওয়ার প্লেতে তাঁর জোড়া আঘাত হানার পুরোনো রূপটি ফিরে পাওয়ায় বিপক্ষ দলগুলো শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। যার ফলে মিডল ওভারের বোলাররাও বাড়তি সুবিধা পান এবং প্রতিপক্ষকে নিয়মিতভাবেই স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৪০-৫০ রান কম স্কোরে আটকে রাখতে সফল হয় পাকিস্তান।
চাপের মুখে পারফর্ম করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কমফোর্ট জোন ফখর জামান। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা ২০২৩ বিশ্বকাপ; সব বড় মঞ্চেই তিনি দলের প্রধান ভরসা ছিলেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় ফখর খেলেছেন ৯৯ বলে ১২৭ রানের এক অনবদ্য ও ম্যাচিউরড সেঞ্চুরি। বলাই বাহুল্য, ২০২৭ বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছেন।
দলের ব্যাটিং ও পেস আক্রমণে স্বস্তি ফিরলেও কিছু ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম ফর্মহীনতায় থাকলেও তাঁর মতো বড় মাপের খেলোয়াড় যেকোনো বড় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, যা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট খুব একটা চিন্তিত নয়। তবে ওপেনিংয়ে ফখরের একজন স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য পার্টনারের অভাব এবং বোলিং আক্রমণে আরও একজন ধারালো স্ট্রাইক বোলারের ঘাটতি রয়েছে। এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলো দূর করতে পারলে ঘরের মাঠ ও বাইরের কন্ডিশন মিলিয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে হট ফেভারিট হয়েই নামবে, তা বলাই যায়।