স্পোর্টস ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক দল। তবে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন স্পিনার নাঈম হাসান। দায়িত্বশীল ও দৃঢ়চেতা এক ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা ফিফটি তুলে নিয়ে সফরকারীদের সামনে ১৭০ রানের মাঝারি লক্ষ্য দাঁড় করাল টাইগাররা।
চতুর্থ দিনে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। আগের দিন মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামা জাকের আলী প্রথম ওভারেই জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৩৪ বলে তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ২২ রান। এরপর দ্রুত ফিরে যান পেসার হাসান মাহমুদও (৮)। তাইজুল ইসলামও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি (৮)। একে একে সতীর্থরা সাজঘরে ফিরলে দলের ইনিংস একপ্রকার খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছায়।
একপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মিছিল চললেও অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান নাঈম হাসান। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে দলের রান বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলেন এই অফ স্পিনার। অবশ্য এই পথে কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল; ইনিংসের ২১ ও ২৯ রানে উইন্ডিজ ফিল্ডারদের বদান্যতায় দুবার জীবন পান তিনি। জীবন পাওয়ার সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ৯১ বলে ৫২ রানের দারুণ এক লড়াকু ইনিংস উপহার দেন নাঈম।
নাঈমের লড়াইয়ের মাঝেই হঠাৎ বৃষ্টি নামে মিরপুরে, যার কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টি থেমে খেলা পুনরায় শুরু হলে মাত্র ২.৪ ওভার টিকেছিল বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত রোস্টন চেজের বলে বিশপের হাতে ক্যাচ দিয়ে নাঈম আউট হলে ১৪২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং ইনিংসে সবচেয়ে বড় ত্রাস ছিলেন স্বাগতিকদের ব্যাটিং ধস নামানো রোস্টন চেজ। তিনি মাত্র ৩৬ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। এছাড়া জোমেল ওয়ারিকান ৬৩ রানের বিনিময়ে নেন ৪টি এবং শামার জোসেফ নেন ১টি উইকেট। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জেতার জন্য ১৭০ রান করতে হবে।