স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় আগামী নারী বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফিফা বড় ঘোষণা দিয়েছে। দলগুলোর প্রাইজমানি আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। তবে এই বৃদ্ধিও পুরুষদের বিশ্বকাপের সঙ্গে সমতা আনার লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল সামান্য ১০ কোটি ডলারের ওপরে। ব্রাজিল আসরে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২২ কোটি ডলারে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডায় অনুষ্ঠিত পুরুষদের বিশ্বকাপে যে পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, নারীদের এই নতুন অঙ্ক তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাত্র।
সবশেষ ৪৮ দলের পুরুষ বিশ্বকাপ শেষে ফিফা ১৫০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয়ের কথা জানিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের নারী বিশ্বকাপ এখনও পুরুষদের আসরের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যে লিঙ্গ সমতার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনেও এই সিদ্ধান্ত ব্যর্থ বলে মনে করা হচ্ছে। এবারের পুরুষ বিশ্বকাপে দলগুলোর মোট প্রাইজমানি ছিল ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
২০২৩ সালে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। অনেক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ধরে নিয়েছিল পুরুষ বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনলেই নারী বিশ্বকাপের স্বত্বও চলে আসবে। তখন ইনফান্তিনো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ২০২৬ পুরুষ ও ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানিতে সমতা আনাই তাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেছিলেন, ফিফা নিজেরাই এই লক্ষ্য ঠিক করেছে এবং শুধু কথায় নয়, কাজেও এগোচ্ছে। তবে সম্প্রচারক ও স্পন্সরদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
টুর্নামেন্টের আগে এই কথা বাণিজ্যিক মহলে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। অনেক সমালোচক বরং ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, ফিফা আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলে যতটুকু বিনিয়োগ করছে, অনেক দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ নারী ফুটবলে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করছে।
ইতিবাচক দিক হলো, ফিফা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রতিটি দল পুরুষদের সমান প্রস্তুতিমূলক অর্থ পাবে। প্রতি দলের জন্য এই অঙ্ক দ্বিগুণ করে ২৫ লাখ ডলার করা হচ্ছে।