স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
১৯৫৮ সালের সেই ভয়াবহ কুয়াশাচ্ছন্ন ফেব্রুয়ারি দিনটি আজও ফুটবল বিশ্বের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। মিউনিখ বিমানবন্দরের রানওয়েতে ভেঙে পড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় বহনকারী বিমানটি, যে ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৩ জন তাজা প্রাণ। যুগ যুগ ধরে সেই ক্ষতের স্মৃতি ও বীরদের আত্মত্যাগকে বুকে ধারণ করে আসছিল জার্মানির মিউনিখের ‘ম্যানচেস্টারপ্লাৎস’।
কিন্তু সম্প্রতি সেই পবিত্র স্মৃতিসৌধেই নেমে এসেছে অবমাননার কালো ছায়া। দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলায় ভেঙে ফেলা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সুরক্ষাকাচ, আর লুট হয়ে গেছে ইতিহাসের অমূল্য সব স্মারকসামগ্রী।
ম্যানচেস্টার মিউনিখ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ক্লাবটির আট ফুটবলার ও তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনের স্মৃতিবিজড়িত এই স্মৃতিসৌধে हालেই ন্যক্কারজনক চুরির ঘটনা ঘটে। স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা কাচের বাক্সটি ভেঙে সেখানে থাকা দুর্ঘটনাসংক্রান্ত ঐতিহাসিক ও দুর্লভ বিভিন্ন স্মারকসামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এই অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে এমএমএমএফ। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইফতি আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, “এ ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় ম্যানচেস্টার মিউনিখ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন গভীরভাবে মর্মাহত। যারা মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সারা বিশ্বের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছে ম্যানচেস্টারপ্লাৎস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্থান।”
সৌধটিতে এমন কাপুরুষোচিত হামলা চালানোর পরও স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতিসৌধটি দ্রুত মেরামত ও দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ায় মিউনিখের স্থানীয় বন্ধু সংগঠন, বিশেষ করে ‘রেড ডকস’-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইফতি আহমেদ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব পক্ষ থেকেও ভাঙচুরের শিকার এই স্মৃতিসৌধটি নিজ খরচে মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার আগেই এমএমএমএফ নিজেদের উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেরামতের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে।
চেয়ারম্যান ইফতি আহমেদ দৃঢ়তার সাথে আরও যোগ করেন, “দুর্বৃত্তরা হয়তো স্মৃতিবাক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মূল্যবান স্মারক চুরি করেছে; কিন্তু তারা আমাদের স্মৃতি কেড়ে নিতে পারবে না। আমাদের বন্ধুত্বের গুরুত্ব কমাতে পারবে না কিংবা যাদের আমরা স্মরণ করি, তাদের উত্তরাধিকার মুছে ফেলতে পারবে না। তাদের স্মৃতি চিরকাল অম্লান থাকবে। ম্যানচেস্টার ও মিউনিখের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধনও কখনো ছিন্ন হবে না।”