স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
পেসার দিলশান মদুশঙ্কার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে লাহোরে মঙ্গলবার স্বাগতিক পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের এই জয়ে কোনো ম্যাচ বাকি না থাকতেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ইংল্যান্ড।
জিতলেই ফাইনাল- এমন সমীকরণের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কান বাঁহাতি পেসার মদুশঙ্কার গতি আর স্পিনার সহান আরাচ্চিগোর ঘূর্ণিতে মাত্র ২৫.৩ ওভারে ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৩৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মদুশঙ্কা, যা তার ওডিআই ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং চিত্র। আরাচ্চিগো নেন ২৪ রানে ২ উইকেট।
১১১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৮.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে ৬০ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন কামিন্দু মেন্ডিস (৮টি চার ও ২টি ছক্কা)। শাহীন শাহ আফ্রিদিকে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের পঞ্চম ওডিআই ফিফটি পূরণ করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন পবন রথনায়েক। ওপেনার অবিষ্কা ফার্নান্দো ১৬ ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৮ রান করে আউট হন।
তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে টানা তিন জয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান। স্বাগতিকদের এই পরাজয়ে কপাল পুড়েছে ইংল্যান্ডের; শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হেরে গেলে সুযোগ থাকত তাদের, কিন্তু লঙ্কানদের জয়ে আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে।
বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস বলেন, "আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো মাঠের খেলায় দারুণভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। দিলশান দুর্দান্ত বোলিং করেছে। দলের অগ্রগতিতে সবাই ভীষণ খুশি।"
অন্যদিকে ঘরের মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ওডিআই স্কোরে (সর্বনিম্ন ২০০৯ সালে লঙ্কানদের বিরুদ্ধেই ৭৫ রান) অলআউট হওয়ার ধাক্কা সামলে ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ব্যক্ত করেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। তিনি বলেন, "আমাদের এই ম্যাচটি ভুলে ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ফাইনালে আমরা আরও শক্তভাবে ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়াব।"
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে লঙ্কান বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন বাবর আজম এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান আসে হাসান নওয়াজের ব্যাট থেকে।
চতুর্থ ওভারে ফখর জামানকে (৫) ফিরিয়ে উইকেটের পতন শুরু করেন মদুশঙ্কা। এরপর বাবর আজম (২৯), সাদ বেগ (৫), শাহীন আফ্রিদি (১৫) ও হারিস রউফকে (১) শিকার করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই তরুণ পেসার। এর আগে ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ৮০ রানে ৫ উইকেট ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা।
আগামী রবিবার লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের বহুল কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ।