Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

ব্যালন ডি’অর জয়ীদের তালিকা

স্পোর্টস ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এবং মর্যাদাকর ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হলো ‘ব্যালন ডি’অর’। মাঠের পুরো একটা মৌসুমজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনকারী ফুটবলারের পারফরম্যান্সের যথাযথ মূল্যায়ন করতেই ১৯৫৬ সালে ফরাসি ক্রীড়া সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল আনোর হাত ধরে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পক্ষ থেকে সেরা পারফর্মারকে এই সোনালী ট্রফি প্রদান করা হয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে এই পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ছিল “ইউরোপিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার”। শুরুর দিকে কেবল ইউরোপীয় ক্লাবগুলোতে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলাররাই এর জন্য বিবেচিত হতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে নিয়মে প্রথম বড় পরিবর্তন আনা হয়; ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া যেকোনো ফুটবলার, যদি ইউরোপীয় কোনো ক্লাবে খেলে থাকেন, তবে তিনিও এই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

২০০৭ সালে নিয়মে আরও ঐতিহাসিক এক পরিবর্তন আসে। তখন থেকে এটিকে শুধু ইউরোপীয় ক্লাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো ক্লাবের ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মাঝে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সাথে এক চুক্তির সুবাদে পুরস্কারটি ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ নামে যৌথভাবে প্রদান করা হয়েছিল। তবে ২০১৬ সালে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রান্স ফুটবল এককভাবে এর ঐতিহ্যবাহী ব্যালন ডি’অর নামেই ট্রফি প্রদান পুনরায় চালু করে।

ব্যালন ডি’অর জয়ী নির্ধারণ হয় যেভাবে

ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যালন ডি’অর নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় বিজয়ী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে। অন্য অনেক পুরস্কারে সমর্থকদের ভোট গুরুত্ব পায়, কিন্তু এখানে সে সুযোগ নেই। এর পরিবর্তে বিশ্বের নানা দেশের অভিজ্ঞ ফুটবল সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত এক প্যানেলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। পুরুষদের বিভাগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নারী বিভাগেও একই ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়, শুধু সেখানে শীর্ষ ৫০ দেশের সাংবাদিকেরা ভোট দেন।

প্রতিটি সাংবাদিক ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ১০ জন খেলোয়াড় বেছে নেন এবং তাঁদের পারফরম্যান্স অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজান। প্রথম স্থানে রাখা খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে ১২ এবং তৃতীয় স্থানে ১০ পয়েন্ট। বাকি অবস্থানগুলোর জন্য যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।

সব ভোট গণনা শেষে যিনি সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন, তিনিই ব্যালন ডি’অর জয়ী হন। দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয় কে কতবার প্রথম স্থানে ভোট পেয়েছেন। এরপরও সমতা থাকলে দ্বিতীয় স্থানের ভোট বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজনে তৃতীয় স্থানসহ পরবর্তী অবস্থানের ভোটও হিসাবে নেওয়া হয়।

১৯৭০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর বিজয়ী খেলোয়াড়দের তালিকা

২০২৬: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড, বায়ার্ন মিউনিখ)
২০২৫: উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স, পিএসজি)
২০২৪: রদ্রি (স্পেন, ম্যানচেস্টার সিটি)
২০২৩: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, ইন্টার মায়ামি)
২০২২: করিম বেনজেমা (ফ্রান্স, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০২১: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, পিএসজি)
২০২০: করোনা মহামারির কারণে এই বছর পুরস্কারটি স্থগিত রাখা হয়
২০১৯: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০১৮: লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১৭: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১৬: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১৫: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০১৪: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১৩: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০১২: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০১১: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০১০: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০০৯: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা)
২০০৮: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
২০০৭: কাকা (ব্রাজিল, এসি মিলান)
২০০৬: ফ্যাবিও ক্যানাভারো (ইতালি, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০০৫: রোনালদিনহো (ব্রাজিল, বার্সেলোনা)
২০০৪: আন্দ্রে শেভচেঙ্কো (ইউক্রেন, এসি মিলান)
২০০৩: পাভেল নেদভেদ (চেক রিপাবলিক, জুভেন্টাস)
২০০২: রোনালদো (ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ)
২০০১: মাইকেল ওয়েন (ইংল্যান্ড, লিভারপুল)
২০০০: লুইস ফিগো (পর্তুগাল, রিয়াল মাদ্রিদ)
১৯৯৯: রিভালদো (ব্রাজিল, বার্সেলোনা)
১৯৯৮: জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, জুভেন্টাস)
১৯৯৭: রোনালদো (ব্রাজিল, ইন্তারনাজিওনালে)
১৯৯৬: ম্যাথিয়াস সামের (জার্মানি, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড)
১৯৯৫: জর্জ ওয়েহ (লাইবেরিয়া, এসি মিলান)
১৯৯৪: রিস্টো স্টইচকভ (বুলগেরিয়া, বার্সেলোনা)
১৯৯৩: রবার্তো ব্যাজিও (ইতালি, জুভেন্টাস)
১৯৯২: মার্কো ভ্যান বাস্তেন (নেদারল্যান্ডস, এসি মিলান)
১৯৯১: জিন-পিয়েরে পাপিন (ফ্রান্স, মার্শেই)
১৯৯০: লোথার ম্যাথিউস (জার্মানি, ইন্তারনাজিওনালে)
১৯৮৯: মার্কো ভ্যান বাস্তেন (নেদারল্যান্ডস, এসি মিলান)
১৯৮৮: মার্কো ভ্যান বাস্তেন (নেদারল্যান্ডস, এসি মিলান)
১৯৮৭: রুড গুলিট (নেদারল্যান্ডস, এসি মিলান)
১৯৮৬: ইগোর বেলানভ (সোভিয়েত ইউনিয়ন, ডায়নামো কিয়েভ)
১৯৮৫: মিশেল প্লাতিনি (ফ্রান্স, জুভেন্টাস)
১৯৮৪: মিশেল প্লাতিনি (ফ্রান্স, জুভেন্টাস)
১৯৮৩: মিশেল প্লাতিনি (ফ্রান্স, জুভেন্টাস)
১৯৮২: পাওলো রসি (ইতালি, জুভেন্টাস)
১৯৮১: কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে (পশ্চিম জার্মানি, বায়ার্ন মিউনিখ)
১৯৮০: কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে (পশ্চিম জার্মানি, বায়ার্ন মিউনিখ)
১৯৭৯: কেভিন কেগান (ইংল্যান্ড, হামবার্গ)
১৯৭৮: কেভিন কেগান (ইংল্যান্ড, হামবার্গ)
১৯৭৭: অ্যালান সিমোনসেন (ডেনমার্ক, বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ)
১৯৭৬: ফ্র্যাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি, বায়ার্ন মিউনিখ)
১৯৭৫: ওলেগ ব্লোকহাইন (সোভিয়েত ইউনিয়ন, ডায়নামো কিয়েভ)
১৯৭৪: ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস, বার্সেলোনা)
১৯৭৩: ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস, বার্সেলোনা)
১৯৭২: ফ্র্যাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি, বায়ার্ন মিউনিখ)
১৯৭১: ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস, আয়াক্স)
১৯৭০: গার্ড মুলার (জার্মানি, বায়ার্ন মিউনিখ)