স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত উঁচিয়ে ধরা হয়নি ঠিকই, তবে রূপকথার শেষ অধ্যায়েও বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবিসংবাদিত প্রভাব ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। কাতার কিংবা অন্য কোনো আসর নয়, ২০২৬ সালের রোমাঞ্চে ভরা ফুটবল মৌসুম শেষে ব্যালন ডি’অরের তালিকায় আবারও চমক দেখালেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। গোল্ডেন বল হ্যারি কেইনের ঘরে উঠলেও, ৩৯ বছর বয়সে এসে ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন মেসি। আর এর মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে এক বিরল রেকর্ড, যা এর আগে কখনো দেখেনি ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মঞ্চ।
ফুটবল বিশ্বে বয়স কেবলই একটা সংখ্যা, লিওনেল মেসি যেন আরও একবার তার জীবন্ত প্রমাণ দিলেন। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা গেছে, গ্রহের সেরা এই ফুটবলারের নাম উঠে এসেছে তালিকার পাঁচ নম্বর অবস্থানে। এর আগে গুঞ্জন ছিল, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারায় হয়তো এবার সেরা দশেও জায়গা মিলবে না তার। তবে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে শীর্ষ পাঁচে নিজের নাম লেখালেন মেসি।
এই অর্জনের সুবাদেই আউটফিল্ডের খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারে পরিণত হলেন তিনি। যখন এই পুরস্কারের তালিকা ঘোষণা করা হয়, তখন মেসির বয়স ছিল ৩৯ বছর চার মাস। এর ফলে সেরা দশে জায়গা পাওয়া সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মুকুটও এখন তার মাথায়।
অবশ্য সামগ্রিক তালিকায় গোলরক্ষকদের বিবেচনা করলে মেসি বয়সের দিক থেকে একেবারে শীর্ষে নেই। গোলরক্ষক পজিশনসহ বিচার করলে ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে জায়গা পাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিলেন বুফন, সে সময় তার বয়স ছিল ৩৯ বছর ১০ মাস। বুফনের পর দীর্ঘ সময় ধরে মেসির চেয়ে বেশি বয়সে শীর্ষ পাঁচে আর কেউ জায়গা করে নিতে পারেননি।
২০২৬ সালটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে মেসির জন্য ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু শেষ লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ায় অধরা থেকে যায় বিশ্বকাপ জয়। ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাই প্রশ্ন থেকেই গেছে; যদি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতেই যেত, তবে কি মেসি তার ব্যালন ডি’অরের রেকর্ড বাড়িয়ে নবম ট্রফির মালিক বনে যেতেন? উত্তর অজানা হলেও, বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেসির এই কীর্তি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।