স্পোর্টস ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর। উসমান দেম্বেলের পর কার হাতে উঠতে যাচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফি, তা জানা যাবে আগামী ২৬ অক্টোবর। বর্ষসেরা নির্বাচনের সেই চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগ শেষের পথে আসায় ফুটবলের নতুন প্রজন্মের তারকাদের কাছে এখন এই পুরস্কার জয়ের আকুলতা বহু গুণ বেড়ে গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০০ জন নির্বাচিত ক্রীড়া সাংবাদিক ভোট দিয়ে নির্ধারণ করবেন ২০২৬ সালের চূড়ান্ত বিজয়ী। পুরো মৌসুমের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, বড় ম্যাচে দলের জয়ে ভূমিকা, অর্জিত ট্রফি এবং মাঠ ও মাঠের বাইরের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। এসবের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের ১ থেকে ১০ পয়েন্টের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
ভোটের মূল সময়কাল গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত হলেও, ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত পারফর্ম করা তারকারা ভোটারদের মন জয়ে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। স্প্যানিশ ওয়ান্ডার কিড লামিন ইয়ামালকে বাজির দরদামে বেশ ওপরের দিকে রাখা হলেও, দ্য অ্যাথলেটিক ও নিউইয়র্ক টাইমসের গভীর বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে শীর্ষ পাঁচ দাবিদারের সমীকরণ।
১. বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের নিউক্লিয়াস: হ্যারি কেইন
ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইনের জন্য ২০২৫-২৬ মৌসুমটি ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৬৫ ম্যাচে নাম লিখেছিলেন অবিশ্বাস্য ৭৩টি গোলে (যার মধ্যে বুন্দেসলিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপে ৫৬ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট)। ৩৩ বছর বয়সে এসেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যেমন চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছেন, তেমনি জাতীয় দল ইংল্যান্ডের হয়েও বিশ্বকাপ বাছাই ও মূল পর্বে ছিলেন সমান দুর্দান্ত। তবে তাঁর একমাত্র বাধা হতে পারে বড় কোনো দলীয় ট্রফি না পাওয়া। তা সত্ত্বেও চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমেও তাঁর বিধ্বংসী ফর্ম অব্যাহত থাকায় এই দৌড়ে তাঁকে বেশ শক্ত অবস্থান দিয়েছে।
২. অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে অনন্য: মাইকেল ওলিস
গত মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে পেনাল্টি ছাড়া গোল ও অ্যাসিস্টের সম্মিলিত পরিসংখ্যানে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন এই ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। বায়ার্ন ও ফ্রান্সের জার্সিতে সমান ছন্দে থাকা ২৪ বছর বয়সী এই তারকা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৭টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, বুদ্ধিদীপ্ত আক্রমণ এবং সেট-পিসে কার্যকর অবদানের পাশাপাশি রক্ষণে সাহায্য করার প্রবণতা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে। বড় ট্রফি না জিতলেও খেলার ধরনে নিখাদ নৈপুণ্য ওলিসেকে ব্যালন ডি’অরের প্রথম সারির দাবিদার বানিয়েছে।
৩. বিস্ময় বালক থেকে বিশ্বমঞ্চের শাসক: লামিন ইয়ামাল
বয়স মাত্র ১৯ হলেও ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। আগের মৌসুমের তুলনায় চোটের বাঁধা সত্ত্বেও পারফরম্যান্সে বিশাল উন্নতি এনে বার্সেলোনার হয়ে মাত্র ৩৮ ম্যাচে ২২ গোল ও ১৫ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। যদিও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ ও ক্লাবের শেষ ভাগে সেরাটা দিতে কষ্ট হয়েছে, তবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে নতুন করে যে তাণ্ডব তিনি শুরু করেছেন (বার্সার হয়ে ১১ ম্যাচে ৯ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট), তাতে করে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে ব্যাপকভাবে এগিয়ে গেছেন এই স্পেন তারকা।
৪. ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাজা: কিলিয়ান এমবাপে
ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জেতা এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার (২২ গোল) রেকর্ড নিজের নামে লিখে এমবাপে আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি কত বড় মাপের তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত টানাপোড়েনের মধ্যেও পুরো মৌসুমে দলের উজ্জ্বলতম আলো ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। তবে রিয়ালের হয়ে টানা দ্বিতীয় বছর বড় কোনো ট্রফি না জেতা এবং বিশ্বকাপে ফ্রান্স চতুর্থ স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকায় তাঁর ভোট কিছুটা কমতে পারে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি শতভাগ নম্বর পাওয়ার যোগ্য।
৫. মধ্যমাঠের সেনাপতি ও বিশ্বজয়ী: রদ্রি
স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের বিগত মৌসুমটা ছিল এক রোমাঞ্চকর উপন্যাসের মতো। হাঁটুর মারাত্মক চোট (এসিএল) কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তাঁর আট মাস লেগে যায়। তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই তিনি ফিরে পান তাঁর চেনা রূপ। প্রিমিয়ার লিগের শেসে ম্যানচেস্টার সিটির সাফল্য এবং পরবর্তীতে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই তারকা। বিশ্বকাপ শেষে ‘গোল্ডেন বল’ জেতা রদ্রি বর্তমানে বার্সেলোনায় থিতু হয়েছেন। বিশ্বজয়ী হিসেবে দলীয় ট্রফির দিক থেকে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে আছেন, যা সাংবাদিকদের ভোটে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।