স্পোর্টস ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
এল ক্লাসিকোর মতো রোমাঞ্চকর ও ইতিহাসসমৃদ্ধ মঞ্চে আলো কেড়ে নেওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। তবে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লড়াই হলে বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার রাফিনিয়ার প্রেরণা যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে সম্প্রতি চিকিৎসকদের কাছ থেকে খেলার সবুজ সংকেত পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে না নামলেও, আসন্ন হাইভোল্টেজ ক্লাসিকোতে আলো ছড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত ও শতভাগ আত্মবিশ্বাসী তিনি।
চলতি মৌসুমে লা লিগার শিরোপা লড়াই যে জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে এই ক্লাসিকোর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এমন ম্যাচে হান্সি ফ্লিকের রণকৌশলে রাফিনিয়া এক অপরিহার্য নাম। তাঁর মাঠের উচ্চ মানসিকতা, আক্রমণাত্মক ফুটবল ও নিবেদিত প্রাণ দলকে বাড়তি শক্তি জোগায়। পরিসংখ্যান বলছে, ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে রাফিনিয়ার রেকর্ড এক কথায় দুর্দান্ত। অল হোয়াইটদের মুখোমুখি হওয়া ১২টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই জয়ের মুখ দেখেছেন তিনি, যা তাঁর ক্যারিয়ারে যেকোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড (আতলেতিকো মাদ্রিদের পাশাপাশি)।
এদিকে রিয়ালের জালে নিয়মিত গোল করাটা যেন রাফিনিয়ার এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাবুতে বার্সার ৪-০ ব্যবধানের ইতিহাসগড়া জয়ে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে রিয়ালকে ৫-২ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচেও জোড়া গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরা হন। পরবর্তীতে লিগে মনজুইকে ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে আবারও করেন জোড়া গোল।
যদিও ইনজুরির কারণে মাদ্রিদের মাঠে অনুষ্ঠিত লিগ ম্যাচটিতে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং বার্সেলোনা হেরে গিয়েছিল, তবে পরবর্তী সুপার কাপের ফাইনালের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ফেরেন তিনি। আর ফিরেই বার্নাবুর দলটির বিপক্ষে নামিয়ে আনেন নিজের বিধ্বংসী রূপ, দলের ৩টি গোলের ২টিতেই অবদান রেখে আবারও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। রিয়ালের বিপক্ষে তাঁর সর্বশেষ পরাজয়ের স্মৃতি খুঁজতে পেছনে ফিরতে হবে ২০২৩-২৪ মৌসুমের দ্বিতীয় লেগের ক্লাসিকোতে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন মহারণে রাফিনিয়া অল্প সময়ের জন্য মাঠে নামার সুযোগ পেলেও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। পরিসংখ্যান ও তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিয়াল মাদ্রিদের রাজত্বে থাবা বসাতে বার্সেলোনার প্রধান অস্ত্র হতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারই।