Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

সত্যিই ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ ছিল কোহলি

স্পোর্টস ডেস্ক

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে ক্রিকেট মাঠে ব্যাট হাতে বিরাট কোহলির আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা আর তেজ দেখে অনেকেই তাকে ‘অহংকারী’ বা ‘উগ্র’ ভেবে ভুল করতেন। তবে মাঠের সেই ক্ষিপ্র মেজাজের পেছনে আসলে লুকিয়ে ছিল পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রমাণ করার অদম্য তাগিদ, এমনটাই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ব্যাটিং মায়েস্ট্রো এবি ডি ভিলিয়ার্সের।

ডিভিলিয়ার্স বলেন, ‘হ্যাঁ। আর মনে হয় যে সেই ব্যাপারটার সঙ্গে কোহলিও একমত হবে। ওকে দেখে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হত।’

প্রোটিয়াদের সাবেক এই অধিনায়ক স্মৃতির পাতায় উঁকি দিয়ে জানান, ১৯-২১ বছর বয়সে কোহলির আত্মবিশ্বাসের মাত্রা এতটাই উঁচুতে ছিল যে, প্রথম দর্শনে যে কারও তাকে অতি-আত্মবিশ্বাসী বা দাম্ভিক মনে হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। ডি ভিলিয়ার্স জানান, এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি নিজেও একসময় হয়েছিলেন এবং পরে এ নিয়ে তারা বেশ হাসিঠাট্টাও করেছেন। এমনকি কোহলি নিজেও এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত করবেন না বলে মনে করেন তার এই ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

ডিভিলিয়ার্স আরও বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস বেশি ছিল বিরাট কোহলির। আর বিরাট বরাবরই সেরকমভাবেই খেলে এসেছে। কখনও কখনও সেটার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। ওকে দেখে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হত।’

তবে সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো কঠিন মঞ্চে জায়গা করে নিতে এবং বড় সাফল্য পেতে ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের দক্ষতার ওপর এই ধরনের শক্ত বিশ্বাস থাকা অত্যন্ত জরুরি।

প্রোটিয়া এই তারকা বলেন, ‘এটা আমার প্রথম ধারণা ছিল। আমি কথাটা সবসময় ঠাট্টার ছলেই বলে আসি। আমার মনে হয় যে ও আমার সঙ্গে একমত হবে। বিরাটের বয়স যখন ১৯, ২০, ২১ ছিল, তখন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী তরুণ ক্রিকেটার ছিল। অবশ্য ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে সেটা দরকারও হয়। আপনাকে নিজের দক্ষতার উপরে ভরসা রাখতে হয়। আর সময়ের সঙ্গে সেই আত্মবিশ্বাস সামলানোর বিষয়টা আপনি শিখেই যাবেন।’

ডি ভিলিয়ার্স জানান, ‘বয়সের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোহলি যেমন ব্যক্তি হিসেবে আরও পরিণত হয়েছেন, তেমনি ক্রিকেটার হিসেবেও পেয়েছেন এক অভাবনীয় স্থায়িত্ব। সময়ের পরিক্রমায় নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করার চাপ যখন কমে আসতে শুরু করে, তখন মাঠে ও মাঠের বাইরে তার স্বভাবের সেই বাড়তি তেজও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়। পরিণত কোহলি পরবর্তীতে নিজের সেই আত্মবিশ্বাসকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেন, যা তার মাঠের ভাবমূর্তিতেও বড় পরিবর্তন আনে।’