Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে খুন, শেষ পর্যন্ত ফাঁসি হয় যে ক্রিকেটারের

স্পোর্টস ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

ক্রিকেট বিশ্বে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বল ট্যাম্পারিং, ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা মাঠে প্রতিপক্ষের সাথে বাদানবাদে জড়িয়ে ক্রিকেটারদের খলনায়ক হওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। তবে ২২ গজের বীরত্ব পেছনে ফেলে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ফাঁসির কাঠে ঝুলে জীবন দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। তিনি লেসলি হিলটন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেস বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসের তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি স্ত্রী হত্যার অপরাধে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই ১৩টি উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন এই স্পিডস্টার। ক্যারিয়ারে ৬টি টেস্টে ১৯টি উইকেট নেওয়া হিলটন ১৯৩৯ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান এবং সুপরভাইজার হিসেবে নতুন পেশাজীবন শুরু করেন। এরপরই তার জীবনে আসেন লারলিন রোজ জামাইকার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার কন্যা।

দুই পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় শুরুতেই তাদের প্রেমে বাধা আসে। লারলিনের পরিবার কোনোভাবেই এক সাবেক ক্রীড়াবিদকে জামাই হিসেবে মেনে নিতে চায়নি। তবে সব রক্তচক্ষু ও আপত্তি উপেক্ষা করে ১৯৪২ সালের শেষের দিকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় তাদের কোল আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।

সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু ১৯৫৪ সালে লারলিন ফ্যাশন ব্যবসার কাজে প্রায়ই নিউইয়র্ক সফর শুরু করলে দাম্পত্য জীবনে চির ধরে। এ সময়ই হিলটনের কাছে কিছু বেনামী চিঠি আসতে শুরু করে, যেখানে দাবি করা হয় ব্রুকলিনের রয় ফ্রান্সিস নামে এক ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত।

চিঠি পেয়ে হিলটন অবিলম্বে স্ত্রীকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেন। শুরুতে লারলিন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ফ্রান্সিসকে কেবল একজন পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন। তখনকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাদের এ বিবাদকে 'পারিবারিক সমঝোতা' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

তবে ঘটনার জল সেখানে থামেনি। কিছুদিন পর ফ্রান্সিসকে লেখা লারলিনের কিছু গোপন চিঠি হিলটনের হাতে আসে। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এক মাঝরাতে স্ত্রীকে ডেকে তোলেন তিনি। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লারলিন স্বীকার করেন যে, তিনি স্বামীকে পছন্দ করেন না এবং ফ্রান্সিসের সাথেই তার মানানসই রসায়ন।

কথাটির চরম উত্তেজনায় হিলটন বন্দুক উঁচিয়ে স্ত্রীর দিকে একের পর এক গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় লারলিনের। বিচারে হিলটনের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তিনি নিজের ওপর গুলি চালাতে গিয়ে ভুলবশত স্ত্রীকে গুলি করে ফেলেছেন। কিন্তু নিহত লারলিনের শরীরে সাত-সাতটি গুলির আঘাত পাওয়ায় আদালত সে যুক্তি খারিজ করে দেন। ১৯৫৫ সালের ১৭ মে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

হিলটনের ফাঁসির দিন বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়া। সেদিন ক্যারিবিয়ান ব্যাটার জন হোল্ট বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস করে চরম অফ-ফর্মে ছিলেন। গ্যালারিতে থাকা ক্ষুব্ধ দর্শকেরা তখন ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল-“হোল্টকে ফাঁসি দাও, হিলটনকে ছেড়ে দাও!”