স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের শেষ দিনে অবিশ্বাস্য এক ড্রয়ে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। পঞ্চম ও শেষ দিনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ৯২ ওভার ব্যাট করে ঐতিহাসিক এই ড্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর আফগান শিবিরজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত আফগান ব্যাটার রহমত শাহ বলেন, "এই ড্র একটি জয়ের সমান।"
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হারানোর পর আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট হার এড়ানোর রেকর্ড। এই অর্জনের নেপথ্য নায়ক ৩৩২ বল মোকাবিলা করে ১১১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলা ওপেনার সেদিকউল্লাহ অটল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আফগান কোচ রিচার্ড পাইবাস অটলের প্রশংসা করে বলেন, "পুরো কৃতিত্ব সেদিকউল্লাহর, সে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি অসাধারণ ইনিংস। সে নিজের খেলা উন্নত করতে প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে এবং এই আত্মবিশ্বাস সে সামনে বয়ে নিয়ে যাবে।"
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক রহমত শাহ বলেন, "সেদিকউল্লাহ সরাসরি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে এসে যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করেছে, তার ফলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছি।" রহমত নিজেও টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রানের দুর্দান্ত এক ম্যাচ খেলেছেন। দলগত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, পুরো দিন ধৈর্য ধরে কেবল লম্বা সময় ধরে ব্যাট করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার জন্য ফিল্ডিংয়ের সুযোগ হাতছাড়াকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগানদের প্রশংসায় শান্ত বলেন, "তারা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে, বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ যেভাবে ব্যাট করেছে, তা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল। আমাদের মানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তারা যেভাবে প্রতিরোধ গড়েছে, তার পূর্ণ কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য।"
ম্যাচের শেষভাগে সেদিকউল্লাহ আউট হওয়ার পরও শেষ ২৩ ওভারের বেশি সময় ধরে কায়েস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমাদজাই যেভাবে টেল-এন্ডে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ছিল রোমাঞ্চকর। কোহলি-স্টোকস স্টাইলে ব্যাট করে কায়েস আহমেদ ৮০০ বল না হলেও ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন, যদিও কোচ পাইবাস রসিকতা করে বলেন, "কায়েস আমার কোনো পরামর্শের তোয়াক্কাই করেনি, সে যেন বেন স্টোকসকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছিল!"
সব মিলিয়ে শেষ দিনের এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার অনন্য এক নজির স্থাপন করল আফগানিস্তান।