স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) ও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার (ফিফা) গোপন নথি উদ্ধৃত করে এক প্রতিবেদনে ইএসপিএন জানিয়েছে, ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ পরিচালনা পর্ষদ থেকে গোপনে ১.৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২১ কোটি টাকারও বেশি) বোনাস পেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। তথ্য গোপন করে এই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি ফিফার নিজস্ব বিধিবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
ফাস হওয়া আইআরএস নথির বরাতে জানা যায়, ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গঠিত ফিফার অফিশিয়াল অঙ্গসংস্থা ‘এফডব্লিউসি২০২৬’ থেকে ২০২৪ সালে এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয় ইনফান্তিনোকে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ২০২৪ সালে ফিফা থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত ৪.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বাইরে নেওয়া এই অতিরিক্ত অর্থের কোনো তথ্যই ফিফার ২০২৪ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।
ফিফার নিজস্ব বিধিমালার সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, "ফিফা সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য এবং ফিফা মহাসচিবের ব্যক্তিগত সকল আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষতিপূরণের তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ ও উন্মুক্ত করতে হবে।"
তবে ইএসপিএন-এর এই বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পর ফিফা কঠোর ভাষায় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফিফার এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, "আইন লঙ্ঘনের এই দাবি ফিফা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ফিফা সভাপতিকে কোনো ধরনের দ্বৈত বা দ্বিতীয় বেতন দেওয়া হয় না এবং আর্থিক লেনদেনের সমস্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়।"
তিনি আরও জানান, স্বাধীন ক্ষতিপূরণ সাব-কমিটিই কেবল সভাপতির চুক্তিভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করে থাকে এবং সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কর নীতি মেনেই সমস্ত বিবরণী তৈরি করা হয়।
৫৬ বছর বয়সী জিয়ানি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হওয়ার পর থেকে একাধিক বিতর্ক নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ শেয়ার ব্যক্তিমালিকানাধীন সংস্থায় বিক্রি করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে এই নতুন আর্থিক অনিয়মের কেলেঙ্কারি তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।