স্পোর্টস ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ থেকে মহাতারকা লিওনেল মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায় কেবল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মাঠের শক্তিকেই কমিয়ে দেয়নি, দেশটির ফুটবল সংস্থাকেও ফেলে দিয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মুখে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কান্ডারি ছিলেন মেসি। তার অনুপস্থিতিতে এখন শুধু মাঠের শূন্যতাই নয়, মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক ধস সামলানোও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
মেসি থাকা অবস্থায় বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলের ব্র্যান্ড ভ্যালু পৌঁছেছিলো এক অভূতপূর্ব উচ্চতায়। দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালেও যেখানে সংস্থাটির মাত্র ৬টি বৈশ্বিক স্পন্সর ছিল, সেখানে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এএফএর সঙ্গে যুক্ত।
সংস্থাটি বছরে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেই আয় করে থাকে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা তাদের মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি। কিন্তু এই বিপুল বিজ্ঞাপনী আয়ের পেছনে মূল আকর্ষণই ছিলেন লিওনেল মেসি। তার বিদায়ের পর এসব বিজ্ঞাপনী আকর্ষণ ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় সংশয়।
মেসিকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা ও বাণিজ্যের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিতে। বুয়েনস আইরেসে অনুষ্ঠিত বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে স্টেডিয়ামের ৮৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। আর্জেন্টাইন ফোর্বসের তথ্যমতে, কেবল ওই একটি ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকেই এএফএর পকেটে আসে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। শুধু স্টেডিয়াম নয়, ম্যাচটি আন্তর্জাতিক সম্প্রচারেও তৈরি করেছিল রেকর্ড দর্শকপ্রিয়তা।
তাতে এলএমটেনের বিদায়ে শুধু স্পন্সরশিপ নয়, জার্সি বিক্রি, ম্যাচ টিকিটের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্বের বাণিজ্যিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে আগের মতো দর্শক ও সম্প্রচারকদের আকর্ষণ ধরে রাখাই এখন এএফএর প্রধান চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, ফুটবল জাদুকরের প্রস্থানের পর ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আর্থিক প্রবাহ সচল রাখাই হবে আলবিসেলেস্তে ফুটবলের পরবর্তী বড় যুদ্ধ।