স্পোর্টস ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক পেস বোলিং স্পেল উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি গতিদানব হাসান মাহমুদ। ম্যাচের তৃতীয় দিনে পেসের ধার ও নিখুঁত লাইন-লেংথে একা হাতেই আফগান ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পরপর ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ এবং জিয়াউর রহমানকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক উদযাপনে মাতেন হাসান।
টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে এই প্রথম কোনো বোলার হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন। শুধু তাই নয়, চলন্ত ২০২৬ বর্ষপঞ্জিকাতেও বিশ্ব ক্রিকেটে এটি প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিকের নজির।
বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিতে টেস্টে হ্যাটট্রিকের ঘটনাটি এটিই প্রথম নয়, তবে আগের দুটি সাফল্যই এসেছিল স্পিনারদের হাত ধরে। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন সোহাগ গাজী। সেই হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর পর এবং প্রথম বাংলাদেশি কোনো পেসার হিসেবে দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে এই অনন্য মাইলফলকে নিজের নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ।
হ্যাটট্রিক অর্জনের পর থামেনি হাসানের পেস তাণ্ডব। পরবর্তীতে ইয়ামিন আহমেদজাইকে সাজঘরে ফিরিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট (ফাইফার) শিকারের কোটা পূরণ করেন তিনি। এই ৫ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০টি উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই গতি তারকা। মাত্র ১৭টি টেস্ট ম্যাচের ২৯টি ইনিংসে বোলিং করে ৫০ উইকেটের ঘরে পৌঁছালেন তিনি, যা বাংলাদেশি কোনো পেসারের জন্য দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেট নেওয়ার নতুন জাতীয় রেকর্ড।
এই দুর্দান্ত ফাইফারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক সফল পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে দুজনেরই এখন মোট ফাইফার ৪টি। তবে শাহাদাতের চেয়ে বেশ কম ম্যাচ (১৭টি) খেলেই এই চূড়ায় পৌঁছে গেছেন তিনি।