Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল শেষ হওয়ার তিন মাসও পেরোয়নি, এরই মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর সত্য তুলে ধরল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অনলাইন ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বার্তার শিকার হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট যত সামনের দিকে গড়িয়েছে, লিওনেল স্কালোনির দলের বিরুদ্ধে এই বিদ্বেষ ছড়ানোর মাত্রা ততই জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এক অফিসিয়াল রিপোর্টে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে ফিফা।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসকে সামনে রেখে ফিফার 'সোশ্যাল মিডিয়া প্রোটেকশন সার্ভিস' (এসএমপিএস) এই বিশেষ গবেষণা ও সমীক্ষাটি পরিচালনা করে। গত ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং টিকটকের প্রায় ১ কোটি৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, দলগতভাবে আর্জেন্টিনার পর সবচেয়ে বেশি সাইবার আক্রমণের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল এবং নরওয়ে। আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে মূল আক্রমণের বিষয় ছিল কথিত 'রেফারি সুবিধা' পাওয়ার অভিযোগ, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় তীব্র বর্ণবাদ ও ভিনদেশি-বিদ্বেষে (জেনোফোবিয়া)।

ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের আক্রমণের বিচারে আর্জেন্টিনার অবস্থান ছিল চতুর্থ স্থানে, যেখানে সর্বোচ্চ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের ফুটবলাররা। মূলত আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে ব্যাপক বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ট্রোলড বা হেনস্থার শিকার খেলোয়াড়ের নাম সুরক্ষার স্বার্থে গোপনে রাখা হলেও জানা গেছে, তাকে একাধারে বর্ণবাদ, সমকামী-বিদ্বেষ, লিঙ্গবৈষম্য ও রূপান্তরকামী-বিদ্বেষের বিষাক্ত তীর সহ্য করতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় ও দল গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে কেন্দ্র করে। তবে আর্জেন্টিনা যেমন আক্রমণের শিকার ছিল, তেমনি তাদের সমর্থক বা মাধ্যম থেকেও বর্ণবাদী বার্তা ছড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। ভৌগোলিক বিচারে ইউরোপ অঞ্চল থেকে সাধারণ অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণ এসেছে সবচেয়ে বেশি, যার ঠিক পরেই ছিল দক্ষিণ আমেরিকা।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন মাঠের রেফারিরা। দুর্নীতি এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সন্দেহে তাদের উদ্দেশ্য করে সবচেয়ে উগ্র হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ব্যক্তিগত সুরক্ষা ক্ষুণ্ণ করতে রেফারিদের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার (ডক্সিং) মতো ঘটনাও ঘটেছে বেশি।