স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে এক অভূতপূর্ব ও অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব। প্রীতি ম্যাচটি শুরুর আগে আফ্রিকার দেশ বেনিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মহাতারকা মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয় একাধিক বিশেষ উপহার, যার পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য।
ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয়লাভ করে, যেখানে পেনাল্টি থেকে জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ গোলটি করেন মেসি। তবে ম্যাচের আসল আকর্ষণ তৈরি হয় খেলা শুরুর আগে বেনিন দলের সহ-অধিনায়ক সেসি ডি’আলমেইদার উপস্থাপন করা উপহারগুলোকে কেন্দ্র করে। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্পেনীয় ভাষায় মেসিকে একটি বিশেষ চিঠি, ফুল এবং একটি ঐতিহাসিক ভাস্কর্য উপহার দেন।
কিছু আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম প্রথম দর্শনে ভাস্কর্যটিকে "অস্বাভাবিক" বা "অদ্ভুত" বললেও, এটি কোনো সাধারণ উপহার ছিল না। ভাস্কর্যটি ছিল বেনিনের অর্থনৈতিক রাজধানী কোটোনুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'অ্যামাজন স্মৃতিস্তম্ভের' একটি নিখুঁত ছোট প্রতিকৃতি।
এই ভাস্কর্যটি ঊনবিংশ শতাব্দীর দাহোমি রাজ্যের নারী যোদ্ধা ‘আগোজি’ দের স্মরণে তৈরি, যা বিশ্বের একমাত্র নথিভুক্ত সর্ব-নারী সেনাবাহিনী। আফ্রিকা তথা সারা বিশ্বে যা নারী শক্তি, সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক।

এই উপহারের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো- ভাস্কর্যটি সরাসরি মেসির ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়নি। আফ্রিকান সংস্কৃতির ঐতিহ্য মেনে গ্যালারির বক্সে বসে থাকা মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর উদ্দেশ্যে এটি প্রদান করা হয়। বেনিন সংস্কৃতির নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল সাম্রাজ্যের "রাজাকে" (মেসি) রক্ষা করার দায়িত্বশীল যোদ্ধা হিসেবে তাঁর স্ত্রীর হাতে এই প্রতিরক্ষক নারীর স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
কোটোনুতে অবস্থিত মূল ৩০ মিটার উঁচু ও ১৫০ টন ওজনের ব্রোঞ্জ নির্মিত অ্যামাজন ভাস্কর্যটি আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাস্কর্য, যা ২০২২ সালে উদ্ঘাটন করা হয়েছিল।
ম্যাচে আরেক আবেগঘন মুহূর্ত দেখা যায় যখন বেনিনের অধিনায়ক স্টিভ মুন মেসির হাতে বেনিন জাতীয় দলের জার্সি তুলে দেন। চোটের কারণে জার্মানির অগসবার্গে খেলা এই ফরোয়ার্ড ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। তবুও কেবল বিশ্ব ফুটবলের এই কিংবদন্তির বিদায়বেলায় নিজের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাশে থাকতে তিনি সুদূর আর্জেন্টিনা ভ্রমণ করেন।
উল্লেখ্য, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (প্যারিস এসজি) থাকাকালীন ব্র্যাস্টের হয়ে খেলা স্টিভ মুনের সাথে মেসির পূর্বপরিচয় ছিল। মাঠে প্রতিপক্ষ হলেও আফ্রিকান প্রতিনিধিদলের এমন বিরল সম্মান ও শ্রদ্ধা মেসির বিদায়ী ম্যাচটিকে আরও বেশি স্মরণীয় করে তোলে।