Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

ভারতের ক্রিকেট দলে বিভেদের সুর, নেতৃত্ব পেলেন তারকা ব্যাটার

স্পোর্টস ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম

জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনা জয়ের পর ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর। মঙ্গলবার সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। তাঁর বিদায়ের পর ভারতীয় নারী দলের অধিনারক হয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা।

বাইরে থেকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও এর নেপথ্যে ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের সম্পর্কের অবনতি মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বোর্ডের এক সূত্র জানায়, "তারা দীর্ঘদিন ধরে একমত হতে পারছিলেন না, যার সরাসরি প্রভাব ড্রেসিংরুমের পরিবেশের ওপর পড়ছিল।"

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সভাপতিত্বে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় হরমনপ্রীতকে দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। ২০১৬ সাল থেকে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা হরমনপ্রীতের অধীনে ভারত একাধিক বড় সফলতা পেলেও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে টানা ব্যর্থতার পর অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠে।

অন্যদিকে, ৩০ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা বর্তমানে দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটার। ২০১৩ সালে অভিষেকের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০,০০০-এরও বেশি রান সংগ্রহ করা স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই অধিনায়কের পদের প্রধান দাবিদার ছিলেন। গত বছর ঘরের মাঠে ভারতের ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের পর অধিনায়কত্বে কোনো পরিবর্তন না আসায় স্মৃতির ক্ষোভ প্রকাশ করার খবরও সামনে এসেছিল।

ভারতীয় নারী দলে অধিনায়কত্ব বদলকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবারই প্রথম নয়। ২০২২ বিশ্বকাপের পর মিতালি রাজের জায়গায় যখন হরমনপ্রীত দায়িত্ব পান, তখনও তৎকালীন অধিনায়ক ও সতীর্থদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি ভারতের সাবেক অধিনায়ক মিতালি রাজ মন্তব্য করেছিলেন যে, ২-৩ বছর আগেই স্মৃতির হাতে ওডিআই অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া উচিত ছিল।

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও আরও দুই-তিন বছর সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন হরমনপ্রীত। অধিনায়কত্বের চাপ মুক্ত হয়ে ব্যাটার হরমনপ্রীত নিজের সেরাটা দিতে পারেন কি না এবং স্মৃতির নতুন নেতৃত্বে দুজন একসাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, সেটির ওপরই নির্ভর করছে ভারতীয় নারী ক্রিকেটের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।