Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

ফুটবল জাদুকর মেসির 'মহাকাব্যিক যাত্রার' ইতি, আর্জেন্টিনা জিতল ৩-০ গোলে

সালমান ইসলাম

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

বাংলাদেশে যখন সবে নতুন দিনের সূর্য উঠছে, ঠিক তখন পৃথিবীর অপর প্রান্তে বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে পূর্ণতা পেল ফুটবলের এক রূপকথাসম অধ্যায়। ভালোবাসার আকাশী-সাদা জার্সিতে জীবনের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। দর্শকে ঠাসা গ্যালারি আর বাঁধভাঙা আবেগের সাগরে দাঁড়িয়ে জাদুকরি এক প্রদর্শনীতে বিদায় জানালেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে শেষ হলো মহাতারকার রাজত্ব। আর নিজের এই বিদায়ি রাতে নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন আরও দুটি গোল।

মনুমেন্তালে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় খেলা গড়াোর কথা থাকলেও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর নানা আয়োজনের কারণে মিনিট ত্রিশেক বিলম্বে বাজে কিক-অফের বাঁশি। তবে ম্যাচ শুরুর পরই ঘনিয়ে আসে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি। মহাতারকার ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিকে সম্মান জানাতে ম্যাচের ১০ম মিনিটে দুই মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ রাখেন চিলিয়ান রেফারি।

পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তখন আতশবাজির ঝলকানি আর 'ওলে ওলে মেসি' চিৎকারে মুখরিত চারপাশ। গ্যালারির অগণিত সমর্থক থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ বেনিনের ফুটবলাররাও দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফুটবলের এই অনন্য রাজপুত্রকে।

otamendi_messu

মাঠে বল গড়াতেই স্বাগতিকরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নেয়। সপ্তম মিনিটেই এনসো ফার্নান্দেস ও মেসির দুটি চমৎকার সুযোগ দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বেনিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু। এরপর ২৪ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত পাস থেকে মেসির নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

২৬ মিনিটেও বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার। এর মাঝে বেনিনও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার আর্জেন্টাইন রক্ষণে ভীতি ছড়ায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হলুদ কার্ড দেখেন নিকোলাস ওতামেন্দি, আর গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।

messi-goal-argentina_match_last_dance

বিরতির পর মাঠে ফিরতেই যেন রূপ পাল্টে ফেলে আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে দলীয় অধিনায়কের নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে ছয় গজের ভেতর জোরালো শটে বল জালে পাঠান ওতামেন্দি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে আবারও দেখা যায় মেসির অনবদ্য রূপ।

প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাড়ানো নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় তরুণ তুর্কি নিকো পাজকে। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিপুণ শটে ব্যবধান ২-০ করেন ১০ নম্বর জার্সির এই সম্ভাব্য উত্তরসূরি।

otamendigoal-c6499d

দুই সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর পর যেন মেসির নিজের নামের পাশে গোল লেখার অপেক্ষাই ছিল। ৬৮ মিনিটে বক্সে বেনিনের ডিফেন্ডার তামিমাউ উওরো ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৭১ মিনিটে স্পট কিক থেকে বাঁ পায়ের ঠাণ্ডা মাথার শটে জালে বল জড়িয়ে গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসান মেসি নিজেই।

ব্যবধান ৩-০ করার পর স্কালোনি বদলি হিসেবে মাঠে নামান এক্সকুয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুনো ও লিওনেল ফ্লোরেসের মতো তরুণ সেনসেশনদের। ৭৪ মিনিটে মেসির আরেকটি শট সামান্য ব্যবধানে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, আনন্দশ্রু আর নিখুঁত জয় নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্ণিল পথচলা শেষ করেন মহাতারকা।