Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

অবশেষে বিদায়ের রাতে গোল মেসির

স্পোর্টস ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম যেন থমকে দাঁড়িয়ে ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। যে বাঁ পায়ের জাদুতে দীর্ঘ দুই দশক ধরে মন্ত্রমুগ্ধ থেকেছে বিশ্বফুটবল, জাতীয় দলের জার্সিতে সেই পায়ের শেষ স্পর্শ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থক। প্রিয় আঙিনায় সমর্থকদের সেই ব্যাকুলতাকে বিফলে যেতে দেননি লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নিখুঁত এক রূপকথার চিত্রনাট্য লিখলেন তিনি, নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করালেন জোড়া গোল। তাতেই সফরকারী বেনিনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে অধিনায়কের বিদায়ি রাতকে উৎসবের মঞ্চে পরিণত করল আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের বাঁশি বাজতেই বেনিনের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে আর্জেন্টিনা। তবে পুরো স্টেডিয়ামের আবেগের বাঁধ ভাঙে খেলার ১০ মিনিটে, যখন ফুটবল জাদুকরকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় মাঠের খেলা। প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে থাকলেও গোলমুখ খুলতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ৩২ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের চমৎকার পাস থেকে মেসির নেওয়া ভলি একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির ঠিক আগে বেনিনও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল, তবে ৪২ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতানের শট দক্ষতার সাথে ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভেঙে পড়ে বেনিনের রক্ষণ দুর্গ। ৪৮ মিনিটে মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আরেক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। বন্ধুর পাসে নিজের শেষ ম্যাচে ওতামেন্দির এই গোল পুরো মনুমেন্টালকে ভাসায় আনন্দের জোয়ারে। এর কিছুক্ষণ পরই ৫২ মিনিটে ওতামেন্দি ও তাগলিয়াফিকোকে মাঠ থেকে তুলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনাকে মাঠে নামান কোচ স্কালোনি।

খেলার ৬১ মিনিটে আবার মেসির জাদু। ডান প্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বল বাড়ান বদলি খেলোয়াড় নিকো পাজকে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই তরুণ। ম্যাচে এটি ছিল আর্জেন্টিনা অধিনায়কের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট।

সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর পর কেবল নিজের একটি গোলের অপেক্ষা ছিল। ৬৮ মিনিটে সেই স্বপ্নও পূরণ হয়। বক্সের ভেতর আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের তামিমু উওরু ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান চিলির রেফারি। স্পট কিকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের বিদায়ি ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন মেসি