স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সবুজ ঘাসে শেষবারের মতো বুটের ছাপ ফেললেন তিনি। বুটে স্পাইকের শব্দ, বুকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সির টান আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল দীর্ঘ সময়ের অজস্র স্মৃতির ক্যানভাস। ট্রফি জয়ের উল্লাস, হারের কষ্ট আর দেশের স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে লড়ে যাওয়ার অধ্যায়ের শুভসমাপ্তি টানছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মাহেন্দ্রক্ষণেই আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের এই সেনানী জানালেন, আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়েরও এবার চূড়ান্ত ইতি ঘটছে।
মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে এক বিশেষ প্রীতি ম্যাচের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। মূলত অধিনায়ক মেসির বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারকে দলে ডেকে নিয়েছিলেন কোচ। বর্তমানে স্বদেশের ফুটবল ক্লাব রিভার প্লেতে খেলা ওতামেন্দি গতকালই এজেইজা কমপ্লেক্সে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অনুশীলন সেশনটি সম্পন্ন করেছেন।
অনুশীলন শেষে পুরো দল, কোচিং স্টাফ ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মীদের সঙ্গে একফ্রেমে বন্দি হন ওতামেন্দি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই যৌথ ছবি প্রকাশ করে তিনি এক আবেগঘন বার্তা লেখেন, যা পরে নিজের অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেন মেসি। বার্তায় ওতামেন্দি লিখেছেন, “আজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আমার শেষ অনুশীলন ছিল। এটিকে সাধারণ অন্য আট-দশটা দিনের মতো মনে করার চেষ্টা করলেও শুরু থেকেই জানতাম, এরপর আর কোনো কিছুই আগের মতো থাকবে না।”
মাঠের প্রতিটি কোণ ও মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, “মাঠের দিকে তাকাতেই পুরো জীবনের স্মৃতির জট খুলছিল। প্রথমবার জাতীয় দলে আসা, কঠিন সময় পার করা, আনন্দ, কান্না, জয় এবং সেই বেদনাদায়ক পরাজয়গুলো; যা আমাদের বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে। মাঠের প্রতিটি কোণে মিশে ছিল একেকটি গল্প, প্রতিটি দৃষ্টিতেই ছিল বিদায়ের করুণ সুর। এই রং গায়ে জড়ানোর আসল অর্থ কী, প্রতিটি মুহূর্ত তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা শুধু এক স্বপ্ন পূরণ নয়, এটি তার গোটা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান।
সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি বলেন, গ্যালারির গান, প্রতিটি পতাকা আর জাতীয় সংগীতের সুর প্রতিকূল সময়েও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তারা একা নন। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সতীর্থ মেসিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি লেখেন, “আগামীকাল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিশেষ একটি দিন, কারণ দিনটি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের বিদায়ের। প্রিয় বন্ধু, তোমার এই বর্ণিল গল্পের একটি অংশ হতে পারা আমার জন্য ছিল পরম প্রাপ্তি ও সম্মানের।”
বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই জাতীয় দলকে অলবিদা জানানোর মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওতামেন্দি। অবশেষে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই সেই দীর্ঘ যাত্রার পর্দা নামছে। সেশনের শেষে “বিদায়, জাতীয় দল। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ”- এই ক্ষণিকের বার্তায় নীল-সাদা জার্সিতে নিজের লড়াকু অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন এই নির্ভরযোগ্য রক্ষক।