স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
লাল বলের ক্রিকেটে একসময় যা ছিল নিছক কল্পনা, সময়ের চাকা ঘুরে তা-ই এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চোখের সামনে স্পষ্ট এক বাস্তবতা। মাঠের পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসের যে জোয়ার এসেছে, তাতে দীর্ঘদিনের ‘আন্ডারডগ’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার মতো বড় স্বপ্ন এখন আর সুদূর পরাহত মনে হচ্ছে না। টাইগারদের এই মানসিক রূপান্তরের অন্যতম রূপকার, জাতীয় দলের গতি তারকা হাসান মাহমুদ সোজা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন- স্বপ্ন দেখার দিন শেষ, এখন টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের পালা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই নতুন আশাবাদের কথা জানান ২৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে রূপকথার এক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। গত আগস্টে ডারউইন টেস্টে ক্যাঙ্গারুদের বিরুদ্ধে ৯ উইকেটের এক অবিশ্বাস্য জয়ের মূল কারিগর ছিলেন হাসান নিজেই। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে স্বাগতিক ব্যাটারদের তছনছ করে দেন তিনি। এই জয়ের ওপর ভর করেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এসেছে দল।
মাঠের এই সাফল্য দলজুড়ে এক নতুন হাওয়া তৈরি করেছে উল্লেখ করে হাসান বলেন, 'আমাদের দিকে সময়টা ঘুরতে শুরু করেছে, এটা নিশ্চিত। দলের ভেতরের পরিবেশ এখন এমন যে বাংলাদেশ টেস্ট ফরম্যাটে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। আমরা এতদিন টেস্টে দাপট দেখাতে পারিনি, কিন্তু এখনই সেই উপযুক্ত সময়।' গত দুই বছরে ১৩টি টেস্টের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, যা টাইগারদের সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতিরই বড় প্রমাণ।
চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে আর ছয়টি ম্যাচ। এর মধ্যে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি হোম সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অ্যাওয়ে সিরিজ রয়েছে। হাসান মাহমুদের দৃষ্টি এখন ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোতে, 'ঘরের মাঠে যদি আমরা চারটা ম্যাচ জিততে পারি, তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলব না কেন? এই মুহূর্তে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।'
ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল কেন্টের হয়ে সম্প্রতি মাঠ কাঁপিয়ে আসা হাসান মাহমুদকে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই ‘মিনি ম্যাকগ্রা’ বলে ডাকেন। নিজের আক্রমণাত্মক বোলিং কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি ব্যাটারদের কোনো সহজ শট খেলার সুযোগ দিইনি। শর্ট বল আর বাউন্সার দিয়ে চেপে ধরে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে গেছি। তারা শট মারলে মারবে, কিন্তু আমি আক্রমণ থামাইনি।'
বাংলাদেশে পেস বোলিং নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে যাচ্ছে বলে মনে করেন হাসান। তাঁর মতে, 'আমরা খেলা শুরু করার পর থেকেই মানুষের ভাবনায় পরিবর্তন আসছে। সবাই এখন বুঝতে পারছে যে বাংলাদেশেও বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার তৈরি হতে পারে, যারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাপট দেখাতে সক্ষম।'
যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাকেতে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয়, তবুও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসান মাহমুদ ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'আমাদের উন্নতিটা চোখেই দেখা যাচ্ছে। ফাস্ট বোলাররা যদি ফিট থাকে আর ব্যাটাররা নিজেদের ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে আমরা ক্রিকেটকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাব।'
এসটি