Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশের চাকরি ছাড়া শন টেইট আবার পাকিস্তানের দায়িত্বে

স্পোর্টস ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পিএম

টাইমিং আর গতির মিশেলে বাইশ গজে ঝড় তোলা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার শন টেইটের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পথচলা যেন নতুন মোড় নিল। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভিত মজবুত করে দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চেনা আঙিনায় ফিরছেন এই অজি তারকা। তবে এবার আর দীর্ঘমেয়াদি কোচের বাঁধাধরা নিয়ম নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে চুক্তি সম্পন্ন করে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করছেন তিনি।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বোলিং পরামর্শক হিসেবে টেইটের সঙ্গে পিসিবির নীতিগত সব আলোচনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে সাম্প্রতিক একাধিক রদবদলের পর বোলিং বিভাগকে চাঙ্গা করতেই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানে গিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন তিনি।

পাকিস্তানের পেসারদের সঙ্গে টেইটের বোঝাপড়া বেশ পুরনো। ২০২২ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক সফরের আগমুহূর্তে শাহীন আফ্রিদি ও হারিস রউফদের মূল বোলিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন এই বিশ্বকাপজয়ী অজি তারকা। ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে পাক পেসারদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তবে এবার পূর্ণকালীন মেয়াদে না থেকে কেবল পরামর্শকের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছিলেন টেইট। চুক্তি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত হলেও চলতি বছরের ৪ জুন হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের পেস বিভাগে তার সংক্ষিপ্ত এই মেয়াদটি ছিল বেশ সফল। বিশেষ করে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ে বাংলাদেশের তরুণ পেসারদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা টেইটের অধীনে অভাবনীয় উন্নতি করেন। মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া নাহিদ প্রকাশ্যে টেইটের প্রশংসা করে জানিয়েছিলেন, টেইট কোচ হিসেবে শুধু অসাধারণই নন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে একদম বন্ধুর মতো মিশে যেতে পারেন।

বাংলাদেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে টেইট জানিয়েছিলেন, বছরে ১২ মাস তিন সংস্করণের ক্রিকেটে টানা যাতায়াত ও কাজের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছিল। পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতেই মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাকরি ছেড়েছিলেন তিনি। টেইটের সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই এবার পিসিবি তাকে পুরো বছরের কাজের চাপ না দিয়ে সুবিধাজনক পরামর্শকের ভূমিকা দিয়েছে।