০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় এবার পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, অংশ নেওয়া সব ফেডারেশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় ক্রীড়াবিদদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ফুটবল দলের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফল অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে একটা প্রতিযোগিতার ফলাফল দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বিচার করতে চান না তিনি। বরং কোথায় ভুল হয়েছে সেটা চিহ্নিত করে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই, এই ভুল থেকে যাতে আমরা শিক্ষা নিই। যে রেজাল্টটা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের কাজ পর্যালোচনা করেই বর্তমান কোচ নিয়োগ দিয়েছে বলে জানান তিনি। ব্যক্তিগতভাবে এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের ফল নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন। কারণ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এর সুফল পেতে সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা শুরু করেছি, কিন্তু এই রেজাল্টটা আমরা পরবর্তীতে পেতে চাই।” দেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু ফুটবল নয়, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফেডারেশনের পারফরম্যান্স দেখা হবে। এছাড়া এশীয় অঞ্চলের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সসহ সার্বিক বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় আসবে। প্রতিটি ফেডারেশন থেকে পারফরম্যান্স ও অন্যান্য বিষয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন নেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।
এদিকে দেশের স্টেডিয়ামগুলোতে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, কোথাও সরকার সামান্য ভাড়া পাচ্ছে, অথচ একই দোকানের জন্য প্রকৃত ভাড়া অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এমন তথ্য নজরে এসেছে। কোনো ক্ষেত্রে সরকার যেখানে ১ হাজার ২০০ টাকা পাচ্ছে, সেখানে দোকানদারকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। মাঝের বিপুল অর্থ অন্যদের কাছে চলে যাচ্ছে।
কমলাপুর স্টেডিয়াম, ঢাকা স্টেডিয়াম ও মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভাড়ার কাঠামো পর্যালোচনায় কমিটি করা হয়েছে। অতীত ও বর্তমান কাঠামো দেখে সরকারকে রাজস্ববঞ্চনা থেকে রক্ষা করার সুপারিশ করবে কমিটি।
স্টেডিয়ামের পরিবেশ ক্রীড়াবান্ধব করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কমলাপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় রিকশার গ্যারেজ বন্ধ করা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি কংক্রিট রেজাল্ট দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া উচিত ছিল বলে মত দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু শাস্তি দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে এমনটা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ভবিষ্যতে কোনো একক সিদ্ধান্তে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হয়, সে বার্তা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজ করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে।