স্পোর্টস ডেস্ক
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
একই মাঠে লিওনেল মেসির বিপক্ষে লড়াই, অনুশীলনে বাঁশি হাতে রেফারির ভূমিকায় স্বয়ং দিয়েগো ম্যারাডোনা, আর ড্রেসিংরুমে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজের সান্নিধ্য; একজন তরুণ ফুটবলারের জন্য এর চেয়ে বড় স্বপ্ন আর কী হতে পারে! রিভার প্লেটের একাডেমি কাঁপানো আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার গনজালো ওলিদ আপাজার শুরুটা ঠিক এমনই এক রঙিন রূপকথার মতো ছিল।
কিন্তু জীবনের অদ্ভুত নিয়মে সেই সম্ভাবনাভরা ক্যারিয়ারের গল্পটি মোড় নেয় একদম বিপরীতমুখী এক বাস্তবতায়। পেশাদার ফুটবলের ঝলমলে দুনিয়া পেছনে ফেলে আজ তিনি জীবনযুদ্ধের এক ভিন্ন ময়দানে; ট্রাক হাঁকিয়ে বাজারে বাজারে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি আর গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন তিনি।
মাত্র ১২ বছর বয়সে সান মিগুয়েল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রিভার প্লেটের যুব দলে যোগ দিয়েছিলেন আপাজা। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বয়সভিত্তিক দলটি টানা পাঁচটি শিরোপাও জেতে। এরপর আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গোলরক্ষক উবালদো ফিওলের আহ্বানে ডাক পান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ ও ২০ দলে। ২০০৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নাইজেরিয়া বিশ্বকাপে বিশ্বজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন তিনি।
২০০৯ বিশ্বকাপের আগে মূল জাতীয় দলের ‘স্পারিং পার্টনার’ বা অনুশীলনের প্রতিপক্ষ হিসেবে সুযোগ পান আপাজারা। প্রতি বুধবারে মেসিদের মুখোমুখি হতেন তারা, আর ম্যাচটি তদারকি করতেন কোচ ম্যারাডোনা। মেসির অবিশ্বাস্য প্রতিভা সম্পর্কে আপাজা জানান, মেসি তাঁর স্বাভাবিক গতির মাত্র অর্ধেক দিয়ে খেললেও মনে হতো শতভাগ উজাড় করে খেলছেন। সেই মুহূর্তগুলো এতটাই স্বপ্নের মতো ছিল যে বাস্তব কি না তা বুঝতে নিজের গায়ে চিমটি কাটতে হতো তাঁকে। অন্যদিকে সতীর্থ দিবু মার্তিনেসকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য, দিবু তখন থেকেই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ছিল, তাই ওর আজকের বিশ্বজয়ী অর্জনে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
মাঠের নৈপুণ্য থাকা সত্ত্বেও খেলার প্রতি আনন্দ হারিয়ে ফেলেন আপাজা। পেশাদার ফুটবলের মানসিক চাপ সইতে না পেরে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যাম্বাসেরেসের হয়ে খেলার পর বাবাকে ফোন করে জানান, তিনি আর খেলবেন না।
খেলা ছাড়ার পর শুরু হয় জীবিকার লড়াই। ভোর পাঁচটায় উঠে বন্ধুর সাথে পানির বোতল সরবরাহের কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ফুটবলের জমানো টাকা দিয়ে একটি ট্রাক কেনেন এবং যুক্ত হন পারিবারিক ব্যবসায়।
বর্তমানে শহরের বিভিন্ন বাজার, বার ও রেস্তোরাঁয় আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি ও গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবসা সফলভাবে সামলাচ্ছেন এই সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। পেশাদার খেলায় না থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট। জীবন নিয়ে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই তাঁর। আপাজার ভাষায়, 'আমি ফুটবল খেলা ছাড়িনি, শুধু পেশাদার হিসেবে খেলা বন্ধ করেছি। নিজের এই নতুন জীবনে আমি ভীষণ সুখী।'