স্পোর্টস ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে জয় পেয়েছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। তবে আর্থিক অনিয়মে সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার এ ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই লিগের ভাবমূর্তিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ১০০টিরও বেশি আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের মামলায় একটি স্বাধীন কমিশন সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ক্লাবটি কৃত্রিমভাবে নিজেদের আয় বাড়িয়ে দেখাতে এবং ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (১.২ বিলিয়ন ডলার) বেশি খরচ গোপন করতে 'ভুয়া চুক্তি' তৈরি করেছিল। এই নজিরবিহীন অপরাধের কারণে প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার বা রেলিগেশন, বিশাল অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন এবং অর্জিত শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছে ক্লাবটি।
২০০৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মালিকানা পাওয়ার পর বদলে গিয়েছিল সিটির ভাগ্য। ২০১১-১২ মৌসুমে ৯৪ মিনিটে সার্জিও এগুয়েরোর অবিশ্বাস্য গোলে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ জেতাসহ গত ১৫ মৌসুমে মোট ৮টি লিগ শিরোপা জিতেছে দলটি। তারা ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড গড়া ছাড়াও টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ইতিহাস লিখেছিল। কিন্তু সেই সব অর্জনের পাশে এখন প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে গেছে।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি যদি খেলোয়াড় হতাম, তবে ১০০ পার্সেন্ট এই মেডেলগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতাম। অবশ্যই দেওয়া উচিত, কারণ এটি সরাসরি প্রতারণা।" ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার রিয়ো ফার্ডিনান্ড ঠাট্টা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "আমাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি মেডেল যুক্ত হতে যাচ্ছে।"
এই কেলেঙ্কারিটি ২০০৬ সালে ইতালিয়ান ফুটবলের বিখ্যাত 'ক্যালসিওপোলি' কেলেঙ্কারির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে আম্পায়ার বা রেফারি প্রভাবিত করার অপরাধে জুভেন্টাসের দুটি শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সিরি বি-তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত দুই দশকেও ইতালিয়ান ফুটবল সেই ধস থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
স্পোর্টস প্রফেশনাল ও বিশ্লেষকদের মতে, সিটির এই পতনে লিগটি তার অন্যতম সেরা পোস্টার বয় আর্লিং হলান্ডকে হারাতে পারে, যার গন্তব্য হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা পিএসজির মতো ক্লাবে।
তবে প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাষ্টার্স একে লিগের শক্তিশালী ও স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "এই ডিসিপ্লিনারি কেস ও সিদ্ধান্তটি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। টুর্নামেন্টের সততা রক্ষা করতে এবং প্রতিটি ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য সমান ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই লিগ কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।"