Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

এশিয়ান গেমসের সেমিতে হেরে যা বললেন লিটন দাস

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশ দল সোনার পদকের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে। ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সম্ভাবনা জেগে উঠলেও বোলিংয়ে ছন্দ হারিয়ে ৯ বল হাতে রেখেই হার মেনে নিতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে চান্স বেশি ছিল।’

এই হারে সোনা জেতার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। লিটনের কণ্ঠেও ফুটে উঠল হতাশা, ‘এটা স্বাভাবিকভাবেই হতাশার। দেশ ছাড়ার সময়ই আমরা বলেছিলাম, ফাইনাল খেলতে চাই। কিন্তু সেই জায়গায় আমরা যেতে পারিনি।’

সোনার পদক না পাওয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কখনোই এটা আদর্শ ফল নয়। আমাদের অবশ্যই সোনা জিততে হতো, আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। ভবিষ্যতেও যারা আসবে, তারাও চেষ্টা করবে। তবে যখন কিছু ঘাটতি থেকে যায়, তখন অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতেও যারা আসবে তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।’

এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির কারণে অনুশীলন ঠিকমতো হয়নি। ফুটবল খেলেই প্রস্তুতি নিতে হয়েছে দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচও বৃষ্টিতে বাতিল হয়। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন লিটন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে আমরা রুমে বসে ছিলাম, এর মধ্যে টসও হেরেছি। তাই আমাদের হাতে আসলে খুব বেশি অপশন ছিল না। উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল। এত দিন বসে থাকার পর নেমেই অসাধারণ একটা ইনিংস খেলা সহজ নয়।’

দীর্ঘ বিরতির প্রভাব নিয়ে লিটন আরও বলেন, ‘অনেক দিন মাঠের বাইরে থাকলে উইকেট খেলার পর ধীরে ধীরে একটা ধারণা পাওয়া যায়। আমাদের হাতে সেই ধারণাটাও ছিল না। গত কয়েক দিন কোনো খেলা দেখিনি, উইকেটে অনুশীলনেরও সুযোগ পাইনি। তাই প্রথম কয়েক ওভার আমরা অনেকটা ধারণা ছাড়াই খেলেছি। পরে ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানরা উইকেট সম্পর্কে বুঝতে পেরেছে।’

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ১৩ ওভারে নেমে আসে। ৪৫ রানে টপ অর্ডারের চার ব্যাটার আউট হয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়ে দলকে ১১১ রানের পুঁজি এনে দেন।

লিটন বলেন, ‘হৃদয়কে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ও আমাদের দলকে ওই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছে। মোসাদ্দেক ও হৃদয়ের জুটিটাও খুব ভালো ছিল।’

১১২ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান যখন ২৪ বলে ৩৬ রান চাইছিল, তখন মোস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে ২৩ রান ম্যাচের দিক বদলে দেয়। সমীকরণ ১৮ বলে ১৩ রানে নেমে আসে এবং পাকিস্তান ৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয়।

মোস্তাফিজকে ওই ওভার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লিটনের ব্যাখ্যা, ‘অনেকজনই অপশন ছিল। আজ মোস্তাফিজ যদি তিন উইকেট পেত, তাহলে হয়তো এই প্রশ্নটা আসত না। এত দিন তো ও ভালোই করেছে। আমার কাছে ওই মুহূর্তে মোস্তাফিজই সেরা অপশন মনে হয়েছে, তাই ওকেই করিয়েছি।’