স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার খবরে ম্যানচেস্টার সিটির সাফল্যকে 'প্রতারণার যুগ' বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের বর্তমান কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।
২০০৮ সালে আবুধাবি ভিত্তিক মালিকানা পাওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের বেশিরভাগই একটি স্বাধীন কমিশন দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে বলে শুক্রবারে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও প্রিমিয়ার লিগ বা ম্যানচেস্টার সিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। সিটি শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক এখনও তাদের নির্দোষ প্রমাণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
টটেনহ্যাম, চেলসি ও সাউদাম্পটনের সাবেক কোচ পচেত্তিনো মনে করেন, সিটির এই অপরাধ কেবল তাদের নিজস্ব ভাবমূর্তিই নষ্ট করেনি, বরং পুরো প্রিমিয়ার লিগেরই বিশাল ক্ষতি করেছে। পচেত্তিনো বলেন, "যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, সময়কে তো আর পেছনে ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি ফুটবলের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছে। অনেক ক্লাব নিয়ম মেনে চলেছে, আবার কেউ নিয়ম মানেনি।"
ক্ষোভ প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন এই কোচ আরও যোগ করেন, "যে উদযাপনগুলো হয়েছিল তা আসলে সত্যিকারের ছিল না। যা দেখতে ভালো মনে হয়েছিল, তা হয়তো ততটা ভালো ছিল না। আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি যেখানে খেলাধুলার নিরপেক্ষতা বলে কিছু ছিল না। ১১৪টি নিয়ম যদি সত্যিই ভেঙে থাকা হয়, তবে এই ক্ষয়ক্ষতি আপনি কীভাবে মেরামত করবেন? আমরা তো এক প্রতারণার যুগের মধ্য দিয়ে বেঁচে ছিলাম।"
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের আর্থিক তথ্য এবং পরবর্তীতে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে সিটির বিরুদ্ধে এই শাস্তির খড়্গ আসছে। ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে পয়েন্ট কর্তন, লিগ থেকে বহিষ্কার অথবা বিশাল অঙ্কের জরিমানা।
টটেনহ্যামে থাকার সময়ের কথা স্মরণ করে পচেত্তিনো আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নতুন স্টেডিয়াম বানানোর সময়ে প্রায় ১৮ মাস টটেনহ্যাম কোনো নতুন খেলোয়াড় সাইন করতে পারেনি কেবল আর্থিক ফেয়ার প্লে-র কঠোর নিয়মের কারণে। অথচ তৎকালীন সময়েও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলোকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সিটিকে কী শাস্তি দেওয়া উচিত তা আদালতের বিষয় হলেও পচেত্তিনো স্পষ্ট করে দেন যে প্রিমিয়ার লিগের সেই দিনগুলোর প্রতিযোগিতা কখনোই সমতার ছিল না।