স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
২০১৭ সালের নেইমার স্থানান্তর কেলেঙ্কারির ছায়া এখনও বার্সেলোনাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সাবেক আইনি প্রধান রোমান গোমেজ পন্তি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন, যা ক্লাবের তৎকালীন নেতৃত্বকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পন্তির দাবি, সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউয়ের আমলেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় তার ব্যক্তিগত আইনজীবী হোসে আনহেল গঞ্জালেস ফ্রাঙ্কোকে ১.৭ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার। এই অর্থ নেইমার চুক্তি সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার কমিশন করা ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বার্তেমেউ ক্লাবের অগোচরে প্রায় চার মিলিয়ন ইউরো বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী ও কমিশনে ব্যয় করেন।
তদন্তের কেন্দ্রে সেই ১.৭ মিলিয়ন ইউরো। ২০১৬ সালে বার্সেলোনা প্রসিকিউটর অফিস ও স্টেট অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে নেইমার চুক্তিতে দুটি ট্যাক্স অপরাধ স্বীকার করে ৫.৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দেয়। প্রসিকিউটরদের মতে, ফ্রাঙ্কোকে দেওয়া টাকা বোর্ডের আগাম অনুমোদন ছাড়াই ছাড় করা হয় এবং পরে জানানো হয়। মূল আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন ক্রিস্টোবাল মার্তেল। ফ্রাঙ্কো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেননি। বরং তিনি বার্তেমেউকে ব্যক্তিগতভাবে রক্ষা করছিলেন, যা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে বলে অভিযোগ।
আদালতে পন্তি নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ফি নির্ধারণ বা অর্থ পরিশোধ তার এখতিয়ারে ছিল না; এটা পুরোপুরি বোর্ডের দায়িত্ব। তার ভূমিকা শুধু মতামত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পন্তি ও বার্তেমেউ উভয়েই এই ব্যয়কে যুক্তিসংগত বলে মনে করেন। তাদের যুক্তি, এই ফি সমঝোতায় ক্লাবের সাশ্রয় হওয়া অর্থের মাত্র ১০ শতাংশ, যা অস্বাভাবিক নয়।
শুনানিতে একটি বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিও সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ফ্রাঙ্কোকে ২ লাখ ইউরো দিলেও পরবর্তী প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরোর দাবি ফিরিয়ে দেয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, বীমা কোম্পানি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ক্লাবের তহবিল থেকে ঘুরপথে সেই বিল মেটানো হয়।