স্পোর্টস ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
মাঠের লড়াইয়ে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা এক বিষয়, আর বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ জয় অন্য কথা। ফুটবল যে কেবলই পাসিং বা বল দখলের খেলা নয়, শেষ পর্যন্ত গোলটাই মূল কথা; তা আরও একবার হাড়ে হাড়ে টের পেল বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ লক্ষ্য নিয়ে লাল-সবুজ বাহিনী লড়াই করল, মাঠজুড়ে গোছানো ফুটবল খেলল, অথচ কাজের কাজ গোলটাই এলো না। এক গোলের বিষাদ নিয়ে শেষ পর্যন্ত জামাল ভূঁইয়াদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আর সেই পরাজয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই আসিয়ান কাপের শেষ চারে ওঠার সব আশা শেষ হয়ে গেল ডুলির শিষ্যদের।
মালয়েশিয়ার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশকে এই ম্যাচে নতুন করে সাজান কোচ থমাস ডুলি। একাদশে সোহেল রানা, ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ফাহমিদুলদের বদলে ফেরানো হয় অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, জিদান ইউসুফ ও শেখ মোরসালিনদের। ৪-৪-২ ছকে নেমে শুরু থেকেই কিছুটা আক্রমণাত্মক ও বিল্ডআপ ফুটবল উপহার দেয় দল। তবে মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে জিতলেও সিঙ্গাপুরের পেনাল্টি বক্সে গিয়ে বারবারই খেই হারিয়েছেন ফরোয়ার্ডরা। যার ফলে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের একটি শটও সিঙ্গাপুর গোলরক্ষককে পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি।
উল্টো দিক থেকে নিজেদের রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই ধারালো পাল্টা আক্রমণে উঠেছে সিঙ্গাপুর। ম্যাচের ১৭ ও ৩২ মিনিটে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুটি দুর্দান্ত সেভ এবং তারিক কাজীর ব্লকে বাংলাদেশ বেঁচে গেলেও ৩৫ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডান দিক থেকে নূর আবদুল্লাহর মাপা ক্রসে পোস্টের সামনে ফাঁকায় থাকা হ্যারিস স্টুয়ার্ট হেডে বল জালে পাঠান। বিরতির ঠিক আগে ইলহান ফান্দির একটি শট ক্রসবারে না লাগলে দুই গোলেই পিছিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে আরো মরিয়া হয়ে ওঠে দল। ৫৭ মিনিটে তরুণ মিনহাজুল ইসলাম স্বাধীনের অভিষেকের মাধ্যমে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। জামাল ভূঁইয়ার কর্নার, সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে শমিত সোমের হেড কিংবা ফাহমিদুলের পাস থেকে রাকিব হোসেনের জোরালো প্রচেষ্টা; কোনোটিই সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা একের পর এক বল বক্সে ফেললেও সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগ ছিল দেয়ালের মতো শক্ত। তারে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এতে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল। ফলে গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচটি লাল-সবুজ শিবিরের জন্য এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা ও সম্মান বাঁচানোর লড়াই।