Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

এক রাতেই আয়ের ৯৯ শতাংশই হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান ব্রাজিল কিংবদন্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

সবুজ গালিচায় বাঁ পায়ের সেই অবিশ্বাস্য রকেট শটে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুমড়েমুচড়ে দেওয়া কিংবা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিস্ময় জাগানো, রবার্তো কার্লোস নামটাই ছিল সাফল্যের এক উজ্জ্বল প্রতিশব্দ। তবে ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানো এই কিংবদন্তির মাঠের বাইরের জীবনের গল্পটা ভীষণ বেদনার। মাঠের পারফরম্যান্সে বিশ্ব জয় করলেও, পেশাদার ক্যারিয়ার শেষে এক নির্মম বাস্তবের মুখে পড়তে হয়েছিল এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। বুটজোড়া তুলে রাখার পর তিনি আবিষ্কার করেন, জীবনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে অর্জিত উপার্জনের প্রায় পুরোটাই নিঃশেষ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি লিসবনে আয়োজিত ‘পর্তুগাল ফুটবল সামিটে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের জীবনের এই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা অকপটে প্রকাশ করেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান কিংবা ফেনারবাচের মতো জায়ান্ট ক্লাবগুলোতে খেলে তিনি যে বিপুল অর্থ আয় করেছিলেন, ভুল মানুষের ওপর অন্ধবিশ্বাস রাখার কারণে তার প্রায় পুরোটাই এখন অতীত। 

ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো'র তথ্যসূত্রে জানা যায়, পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে কার্লোসের মোট আয় ছিল প্রায় ১৬ কোটি ইউরো। তবে অসৎ ব্যবসায়িক অংশীদার ও অসাধু ফুটবল এজেন্টদের চক্রান্তে পড়ে জমানো সম্পদের ৯৯ শতাংশই খোয়া গেছে এই সাবেক তারকা খেলোয়াড়ের।

সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে গিয়ে কার্লোস স্মৃতিচারণ করেন, এক বৃহস্পতিবার রাতে সাধারণ নিয়মেই ঘুমোতে যান তিনি। কিন্তু শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই ঘরের টেবিলে দেখতে পান অপরিচিত নানা আইনি নথিপত্রের এক বিশাল স্তূপ। তখনই বুঝতে পারেন, সারা জীবনের সব জমানো টাকা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই ধাক্কায় তাঁর পরিবারে তখন নেমে এসেছিল চরম মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়।

নিজের সেই অতীত ভুলের জন্য আজ তীব্র আফসোস করলেও, বর্তমান যুগের তরুণ ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন এই ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী। শুধু খেলার ওপর নির্ভরশীল না থেকে ক্যারিয়ার চলাকালীনই অবসর-পরবর্তী জীবনের ছক আঁকার তাগিদ দেন তিনি। 

তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারবারের লা লিগাজয়ী এই লেফট-ব্যাক জানান, খেলোয়াড়ি সময়েই স্পোর্টিং ডিরেক্টরের লাইসেন্স জোগাড় করা এবং বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ করার যে দূরদর্শিতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা-ই আজও তাঁকে সামলে রেখেছে। রিয়াল মাদ্রিদের এই বর্তমান ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও বয়সভিত্তিক দলের কোচ চান, আজকের উদীয়মান তারকারা যেন তাঁর ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেন।