স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঘরোয়া কাঠামোকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চালু করেছে নতুন ‘ডোমেস্টিক ৩’ বা ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানাধীন এই টুর্নামেন্টের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী তিন বছরের চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিসিবি।
নতুন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অভিন্ন ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো এইস ব্লুস্টারস, ফরচুন গ্রুপ, সিটিজেনস ব্যাংক, ওয়ালটন গ্রুপ, সেভেন সিংস সিমেন্ট এবং একমি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের টুর্নামেন্ট হলেও এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের হাতে রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খরচের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করে দেবে বিসিবি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।
আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিটি দল ২৩ জন করে খেলোয়াড় দলভুক্ত করতে পারবে। আগামী ২৬ অক্টোবর খেলোয়াড়দের নিলাম বা ড্রাফট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিন ফরম্যাটের এই ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট শুরু হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাব্য সূচি রয়েছে, এছাড়া ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। টি-টোয়েন্টির পর আগামী জানুয়ারিতে মাঠে গড়াবে প্রথম শ্রেণির লিগ এবং আগামী বছরের মে মাসে ৫০ ওভারের ওয়ানডে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই তিন ফরম্যাটের চক্র পূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে তিন ফরম্যাটের এই ডি-থ্রি কাঠামোতে মোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৯টি, ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৬টি এবং প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে ৭টি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটাররা তিন ফরম্যাট মিলিয়ে একেকটি দল সর্বনিম্ন ১২টি থেকে সর্বোচ্চ ১৭টি পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, যা বাংলাদেশি ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।