স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে খুব কমই দেখা গেছে। মাত্র ১১ বছর বয়সী এক শিশু যখন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে নেয়, তখন সবাই অবাক হয়ে যায়। জাপানের ইউকি কুরিহারা ঠিক তাই করেছেন। তিনি পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস নামের পাজল গেমে স্বর্ণপদক জিতে এশিয়ান গেমসের অন্যতম কমবয়সী পদকজয়ী হয়ে উঠেছেন।
পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস একটি রঙিন বল জোড়া লাগানোর পাজল গেম। খেলোয়াড়রা একই রঙের বল মিলিয়ে স্ক্রিন থেকে সরিয়ে ফেলেন। ইউকি প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এই গেম খেলা শুরু করেন। ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতায় নাম লেখান এবং জিততে থাকেন। এ বছরের এপ্রিলে তিনি পেশাদার লাইসেন্স পান। তারপর থেকে বড়দের বিপক্ষেও নিয়মিত জয় তুলে নিচ্ছেন।
ফাইনালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিন। শুরুতে ইউকি ০-১ তে পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১০-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেন। জয়ের পর তিনি বলেন, “সত্যি কথা বলতে আমার একটু লজ্জা লাগছিল। তাই মুখের ভাব খুব একটা বদলাতে পারিনি।” সোনার পদক হাতে নিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমি খুব খুশি। পদকটা সত্যিই সুন্দর, চকচকে আর ভারী।”
গেমসের আগে ইউকি বলেছিলেন, স্কুল ও অতিরিক্ত ক্লাসের পাশাপাশি ই-স্পোর্টস চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তবে তিনি এই কাজ উপভোগ করেন। গ্রীষ্মের ছুটিতে তিনি আরও অনুশীলন করে নতুন দক্ষতা গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এশিয়ান গেমসের পুরো ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী পদকজয়ীর কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে ২০১৮ সালে জাকার্তায় ১২ বছর বয়সী ইন্দোনেশিয়ার বুঙ্গা নিমাস মেয়েদের স্কেটবোর্ডিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। তার তিন বছর আগে হ্যাংজোতে ১৩ বছর বয়সী কুই চেনসি মেয়েদের স্ট্রিট স্কেটবোর্ডিংয়ে সোনা পান। সেই তুলনায় ইউকির এই অর্জন আপাতত রেকর্ড হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
১১ বছর বয়সকে সাধারণত কিশোর বলা যায় না। শৈশব ও কৈশোরের মাঝামাঝি এই বয়সে এমন সাফল্য সত্যিই বিস্ময়কর। ইউকি কুরিহারার এই জয় শুধু ই-স্পোর্টসের জন্যই নয়, পুরো এশিয়ান গেমসের ইতিহাসেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।