স্পোর্টস ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম
ফুটবল বিশ্বে সেরার মুকুট মানেই যেন রোজারিওর সেই জাদুকরের নাম। ইউরোপীয় ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন, ধরে নেওয়া হয়েছিলো সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার দিন বুঝি ফুরিয়েছে লা পুলগার। কিন্তু ২০২৬ সালের আসরে ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যে চোখধাঁধানো ফুটবল উপহার দিয়েছেন, তাতে আগের সব হিসাবনিকাশ উল্টে গেছে।
যার ফলে চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর দৌড়ে তিনি আবার শক্ত অবস্থানে। পাঁচটি বড় কারণে তাঁর নবম ব্যালন ডি’অর হাতের নাগালে চলে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। নিচে পয়েন্ট আকারে সেই কারণগুলো তুলে ধরা হলো-
বিশ্বমঞ্চে জাদুকরী পারফরম্যান্স: ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেকে যেন নতুন করে চিনিয়েছেন তিনি। ৮টি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। কেবল ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচেই তার সরাসরি অবদান ছিল। আসরে তিনি সিলভার বল পেলেও, দল চ্যাম্পিয়ন হলে স্প্যানিশ তারকা রদ্রির বদলে গোল্ডেন বলটি নিশ্চিতভাবেই তার হাতে উঠত।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে: পরিসংখ্যান বলছে, সমসাময়িক তারকারা তার ধারের কাছেও ছিলেন না। ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইন ৬ গোল করলেও কোয়ার্টার ও সেমিতে ছিলেন নিষ্প্রভ। স্পেনের তরুণ সেনসেশন ইয়ামাল জালের দেখা পেয়েছেন মাত্র একবার। ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপে দুটি গোল করলেও তা এসেছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানো: ৩৯ বছর বয়সে যেখানে বেশিরভাগ ফুটবলার বুট জোড়া তুলে রাখার প্রস্তুতি নেন কিংবা গতি হারিয়ে ফেলেন, সেখানে তিনি তরুণদেরও অনায়াসে টেক্কা দিয়েছেন। বয়সের ভারে পারফরম্যান্স কমার যে প্রচলিত নিয়ম, তা পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণ করে বিশ্বমঞ্চে অবিস্মরণীয় এক অধ্যায় রচনা করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নীরব বিপ্লব: ব্যালন ডি’অরের জন্য কেবল মাঠের গোল-অ্যাসিস্ট নয়, ফুটবলের ওপর সার্বিক প্রভাবও বিবেচনা করা হয়। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দিয়ে তিনি পুরো আমেরিকার ফুটবল সংস্কৃতিতেই এক অভাবনীয় জোয়ার এনেছেন। দেশটিতে ফুটবলের মান ও জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কোনো একক লিগে একজন খেলোয়াড়ের এমন জাদুকরী প্রভাব ইতিহাসে বিরল।
ফুটবল বিশ্বের নিরঙ্কুশ সমর্থন: সাংবাদিকদের ভোটে সেরার নির্বাচন হলেও, সতীর্থ থেকে শুরু করে কিংবদন্তি কোচ; সবার রায় তার পক্ষেই। জাতীয় দলের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী রোমেরো কিংবা লিভারপুল তারকা ম্যাক অ্যালিস্টারের মতে, এই পুরস্কার কেবল তার অধিকার। মিয়ামির অন্যতম কর্ণধার ডেভ বেকহাম এবং লা লিগায় এমবাপে-ইয়ামালদের খুব কাছ থেকে দেখা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন কোচ সিমিওনেও নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, এই বয়সে এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর সেরার পুরস্কারটি অন্য কারও হাতে ওঠা একেবারেই বেমানান।