স্পোর্টস ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বয়সটা কেবলই একটা সংখ্যা, এই আপ্তবাক্যটি হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপে বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মার জন্যই সবচেয়ে বেশি মানানসই হতে যাচ্ছে। ক্যারিয়ারের একেবারে গোধূলি লগ্নে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতের এই দুই ক্রিকেট মহীরুহ। যখন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে, তখন বিরাটের বয়স ছুঁবে ৩৯-এর ঘর, আর রোহিত পা দেবেন ৪০-এ! বয়সের এই কাঁটা আর প্রোটিয়াদের পেস-বান্ধব বাউন্সি উইকেট; সব মিলিয়ে নিজেদের প্রমাণ করাটা বড় এক চ্যালেঞ্জই বটে। তবে অভিজ্ঞতা আর পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই 'ম্যান ইন ব্লু' তারকা নিজেদের দিনে জ্বলে উঠলে আফ্রিকান দুর্গ জয় করা ভারতের জন্য মোটেও অসম্ভব কিছু নয়।
দলে এই দুই ব্যাটিং স্তম্ভ থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনেও ভারতের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা একলাফে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে এর জন্য একটি বড় শর্ত থাকছে। আফ্রিকার চিরচেনা গতির উইকেটে অতি-আক্রমণাত্মক হওয়ার চেয়ে দেখেশুনে ধীরস্থির ব্যাটিংটাই বেশি কাজে দেবে কোহলি-রোহিতদের। বয়স বাড়ার কারণে শারীরিক ফিটনেস এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের যে সমন্বয়, সেটি ধরে রাখাটা এই তারকা জুটির জন্য বড় একটি পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রায়না বলেন, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি তাদের সঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছি। এবার বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে হচ্ছে। আমার মনে হয়, দুজনই দলে থাকলে আমাদের ট্রফি জয়ের ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকবে।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে অবশ্য ভারতীয় ভক্তরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেই পারেন, বিশেষ করে বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তার ব্যাট বরাবরই চওড়া। প্রোটিয়াদের ডেরায় ১৪টি ওয়ানডে খেলে ৭৪.৮৩ গড়ে তিনি করেছেন ৮৯৮ রান; যা প্রমাণ করে পেস উইকেটে তিনি কতটা ভয়ংকর হতে পারেন। আর বিশ্বকাপ মঞ্চে তো তিনি আরও বিধ্বংসী! এখন পর্যন্ত ৩৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১,৭৯৫ রান, যা ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঝুলিতে আছে ৫টি সেঞ্চুরি ও ১২টি ফিফটি। ওয়ানডে ফরম্যাটে রেকর্ড ৫৪টি সেঞ্চুরির মালিক বিরাট এখনও যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিসিসিআইয়ের 'অটো চয়েস' এবং দলের মূল কাণ্ডারি।
অন্যদিকে, প্রোটিয়া কন্ডিশনে রোহিত শর্মার পরিসংখ্যান কিছুটা ভাবাতে পারে ভারতকে। সেখানে ১৪ ম্যাচে তার রান মাত্র ২৫৬, গড়টাও বেশ মলিন মাত্র ১৯.৬। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এলেই আবার রোহিত অন্য ধাঁচের ব্যাটার হয়ে ওঠেন। মেগা এই ইভেন্টে ২৮ ইনিংসে ৭টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ ৬০.৫৭ গড়ে তিনি তুলেছেন ১,৫৭৫ রান।
সম্প্রতি ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে ওঠা সব গুঞ্জনও ব্যাট হাতেই উড়িয়ে দিয়েছেন রোহিত। ইংল্যান্ড সফরে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেছেন তিনি। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দলেও রাখা হয়েছে এই ডানহাতি ওপেনারকে। এর মাঝেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের গুজবগুলো ভিত্তিহীন এবং অন্তত বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন না তিনি।
অভিজ্ঞ এই জুটির পাশাপাশি যশস্বী জয়সওয়ালের মতো টগবগে তরুণরাও মুখিয়ে আছেন সুযোগ পেলে নিজেদের উজাড় করে দিতে। সব মিলিয়ে, আফ্রিকার মতো চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে কোহলি-রোহিতের অভিজ্ঞতা যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ভারতকে মোমেন্টাম এনে দিতে সক্ষম। ২০১১ সালের পর আরও একবার কি এই যুগলবন্দি ভারতকে ওয়ানডে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরাতে পারবেন? সেই উত্তরটা অবশ্য সময়ই দেবে।