Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

‘আইপিএলে ৫ ম্যাচের গোপন তথ্য জুয়াড়িদের দিয়ে ৩ কোটি রুপি পেয়েছি’

স্পোর্টস ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাকচিক্য আর কোটি টাকার উন্মাদনার আড়ালে স্পট ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ভারতীয় ক্রিকেটে ফের ফিক্সিংয়ের বোমা ফাটলো, এবার খোদ চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) অন্দরমহলের গোপন তথ্য পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম 'তেহেলকা'-এর এক গোপন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক সাবেক রঞ্জি ক্রিকেটারের ভয়ংকর জালিয়াতির গল্প, যিনি শুধুমাত্র দলের ভেতরের খবর বেচে পকেটে পুরেছেন তিন কোটি রুপি।

তেহেলকার ওই গোপন অনুসন্ধানে ফেঁসে যাওয়া ক্রিকেটারের নাম রাচিত ভাটিয়া। একসময় দিল্লি ও হরিয়ানার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলা এই ক্রিকেটার ছদ্মবেশী প্রতিবেদকের ক্যামেরার সামনে অকপটে স্বীকার করেছেন তার অপকর্মের কথা। তিনি জানান, ‘২০২৫ সালের আইপিএল মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের মোট পাঁচটি ম্যাচের অতিগোপন তথ্য তিনি লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে পাচার করেছেন। আর এই নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল 'স্ন্যাপচ্যাট'। প্রতিটি ম্যাচের তথ্য ফাঁসের জন্য তার দর ছিল ৬০ লাখ রুপি। সেই হিসাবে পাঁচটি ম্যাচ থেকে অনায়াসেই তিন কোটি রুপি আয় করেছেন।’

তবে রাচিত ভাটিয়ার এই দুর্নীতির জাল শুধু আইপিএলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) তিনি বাজিকরদের হয়ে বড়সড় কাজ করেছেন। তেহেলকাকে তিনি জানান, ‘টসের আগে একাদশ ফাঁস বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ডিপিএলে তার রেট ছিল ম্যাচপ্রতি ৪০ লাখ রুপি।’ এমনকি নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথাও স্বীকার করেন এই মধ্যস্বত্বভোগী। ‘২০১৮-১৯ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে জুয়াড়িদের কথামতো ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি ওয়াইড বল করেছিলেন তিনি। প্রতিটি ওয়াইডের জন্য ৮ লাখ করে মোট ১৬ লাখ রুপি ঘুষ নিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।’

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, চেন্নাই সুপার কিংসের মতো এমন হাই-প্রোফাইল দলের ভেতরের খবর রচিত পেতেন কোথা থেকে? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের সিএসকে স্কোয়াডের এক খেলোয়াড়ই ছিলেন তার মূল সোর্স। তেহেলকা সরাসরি ওই ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ না করলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন তুঙ্গে। নেটিজেনদের অনেকেই সন্দেহ করছেন তরুণ অলরাউন্ডার বংশ বেদির দিকে। কারণ তিনি গত আসরে সিএসকে স্কোয়াডে ছিলেন এবং ডিপিএলে সেন্ট্রাল দিল্লি কিংসের হয়েও খেলেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএসকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পোর্টস পোর্টাল ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আগেই বোর্ড সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, "আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো কোনো স্বাধীন সংস্থা দ্বারা প্রমাণিত নয়।" 

ভারতীয় ক্রিকেটে দুর্নীতি দমনে বিসিসিআই এবং অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট বেশ কঠোর। এর আগেও ফিক্সিংয়ের দায়ে অনেককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তেহেলকার এই বিস্ফোরক প্রতিবেদন এবং অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ভারতীয় ক্রিকেটে যে বড়সড় এক ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।