Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

শচীনকে ছাড়িয়ে রুটের নতুন ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

ব্যাট হাতে জো রুট ক্রিজে নামা মানেই যেন ক্রিকেট পরিসংখ্যানের পাতায় নতুন কোনো শিহরণ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক সূচি ছিল না, বরং তা হয়ে রইল জো রুটের ইতিহাস রচনার এক অনন্য মঞ্চ। স্বপ্নের মাইলফলক ছোঁয়া থেকে ঠিক তিন রান দূরে দাঁড়িয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি; এরপর চোখের পলকে কবজির জাদুকরী এক ‘রিস্ট ফ্লিক’ বাউন্ডারিতে বলকে পাঠালেন সীমানার ওপারে। সেই এক চারে ভর করেই রেকর্ড বইয়ের পাতা নতুন করে লেখার বার্তা দিলেন ইংল্যান্ডের এই আধুনিক ক্রিকেট আইকন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৩ হাজার রানের এভারেস্ট চূড়ায় পৌঁছাতে রুট সময় নিয়েছেন ৫২১টি ইনিংস। এর মাধ্যমেই তিনি টপকে গিয়েছেন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারকে, যিনি ৫২২টি ইনিংসে স্পর্শ করেছিলেন এই রেকর্ড। ফলে দ্রুততম ২৩ হাজার রানের তালিকায় রুট এখন বিশ্ব ক্রিকেটের দ্বিতীয় ব্যাটার। ইতিহাস গড়ার এই দৌড়ে রুটের ওপরে অবস্থান করছেন কেবল ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলি; যিনি রেকর্ডটি গড়েছিলেন মাত্র ৪৯০টি ইনিংসে।

বিশ্ব ক্রিকেটের অষ্টম এবং ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে রাজকীয় ২৩ হাজার রানের ক্লাবে পা রাখলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে এই বিরল কীর্তি গড়েছেন কেবল শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে, রিকি পন্টিং এবং জাক ক্যালিস। টেস্ট ক্রিকেটে রুটের দাপট সর্বজনবিদিত হলেও একদিনের ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যান একেবারেই আলাদা মাত্রার। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে তাঁর গড়ে রাখা ৫১-র বেশি গড় ও ২০টি শতকের রেকর্ড প্রমাণ করে, ওয়ানডেতেও তিনি কতটা ধারালো। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৭,৮২৬ রান নিয়ে ইংলিশদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সংগ্রাহক, এমনকি তাঁর ওয়ানডে গড় টেস্ট ক্রিকেটের গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।

সবার চোখ এখন টেস্টে শচীনের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান এবং ম্যাচের রেকর্ড রুট ভাঙতে পারবেন কি না সেদিকে। সম্প্রতি লাল বলের ক্রিকেটে শচীনের সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড ইতোমধ্যে নিজের দখলে নিয়েছেন রুট। বর্তমানে টেস্টে ১৪,২৭৮ রান তুলে নেওয়া ইংলিশ এই ব্যাটার শচীনের (১৫,৯২১) চেয়ে পিছিয়ে আছেন ১,৬৪৩ রানে। আগামী ডিসেম্বরে জীবনের ৩৬টি বসন্ত পার করতে যাওয়া রুটের ব্যাটে কিন্তু ক্লান্তির কোনো ছাপ নেই। শচীনের খেলা সর্বাধিক ২০০টি টেস্ট ম্যাচের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করতেও তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৩১টি ম্যাচ।