স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
২০১৮ সালের বহুল আলোচিত 'স্যান্ডপেপারগেট' বল-টেম্পারিং কেলেঙ্কারির ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায় বলে স্বীকার করেছেন স্টিভ স্মিথ। তবে আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট সিরিজে মাঠে নামা নিয়ে একেবারেই বিচলিত নন অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক অধিনায়ক।
আট বছর আগে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে স্যান্ডপেপার দিয়ে বলের আকৃতি পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় স্মিথকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ও অধিনায়কত্ব থেকে বরখাস্ত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। একই ঘটনায় ডেভিড ওয়ার্নারকে ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা ও নেতৃত্ব থেকে স্থায়ীভাবে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয় এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টকে দেওয়া হয়েছিল ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা।
আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগে নিউজ কর্পকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৭ বছর বয়সী স্মিথ জানান, সেই কালো অধ্যায়ের দুঃস্বপ্ন এখনও তাঁকে মাঝে মাঝেই আঁতকে তোলে। জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার ঝলকানি আর সিডনিতে ফিরে কান্নাভেজা সংবাদ সম্মেলনের স্মৃতি তাঁকে এখনও মানসিক চাপে ফেলে দেয়।
স্মিথ বলেন, "আমি ক্যামেরা খুব একটা পছন্দ করি না... সত্যি বলতে ক্যামেরার সামনে এলে আমি বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। ওটা আমার জীবনের অন্যতম ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা ছিল। আজও ক্যামেরার ফ্ল্যাশের শব্দ শুনলে মনে হয় আমি যেন আবার সেই পুরোনো পরিস্থিতিতে ফিরে গেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "তৎকালীন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড যখন আমাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার কথা জানালেন, সেই ২৪-৪৮ ঘণ্টা এবং জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে আসা আর সিডনির সেই সংবাদ সম্মেলন- এগুলোর টুকরো স্মৃতি আজও আমার মাথায় ভেসে ওঠে। তবে আমি ২০১৮ সালের বেশিরভাগ স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি।"
সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে দুর্দান্তভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেন স্মিথ। টেস্টে এখন পর্যন্ত ৫৬ গড়ে ১০,৯২০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞার পর সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেলেও টেস্ট ফরম্যাটে এই প্রথম দেশটিতে পা রাখছেন স্মিথ। স্বাগতিক দর্শকদের বৈরী আচরণের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ চলাকালীন বার্মি আর্মি থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন মাঠে আমি এর চেয়েও অনেক বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। এগুলো এখন আমার সয়ে গেছে। দর্শকদের এই প্রতিপক্ষ মনোভাবকে আমি ইতিবাচকভাবে নিই এবং মাঠে ভালো পারফর্ম করার জন্য নিজের প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করি।"
ডারবানে প্রথম টেস্টের পর সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে গেবেরহা এবং বিতর্কিত সেই কেপটাউনে।